চাঁদপুরের চরাঞ্চলে কৃষিজমি ধ্বংসের অভিযোগে ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট: চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে এক্সকাভেটর দিয়ে কৃষিজমি ও নলখাগড়ার বনভূমি ধ্বংস করে মাটি কাটার অভিযোগে ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় চাঁদপুর মডেল থানায় এ মামলা করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পী দত্ত রনির নেতৃত্বে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে আলুবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল সহযোগিতা করে। অভিযান পরিচালিত চরগুলোর মধ্যে রয়েছে ইব্রাহিমপুর, চালিতাতলী, গোক্ষুরদী, নরহরদি, হিন্দুলী, চরফতেজংপুর ও খানেপুর।

রাতের আঁধারে মাটি কাটার অভিযোগ : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, অভিযানের সময় এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটার মাধ্যমে চরাঞ্চলের কৃষিজমি ও নলখাগড়ার বিস্তীর্ণ বনভূমি ধ্বংসের বিষয়টি উঠে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত এসব কার্যক্রম চালায়।

দিনের বেলায় কার্যক্রম বন্ধ রাখায় অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। আদেশে আরও বলা হয়, অভিযোগের ব্যাপকতা ও প্রভাব বিবেচনায় বিষয়টি মোবাইল কোর্টে নিষ্পত্তির পরিবর্তে নিয়মিত মামলা দায়েরের উপযুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আইন ও ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

২১ জনের নাম উল্লেখ : আদালতের আদেশ ও মামলার নথিতে অভিযুক্ত হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ রয়েছে, তাঁরা হলেন : ১. মমিন দিদার — পিতা: আব্দুর রশিদ দিদার; ঠিকানা: নসিমপুর, শরীয়তপুর। ২. জুয়েল দিদার — পিতা: মমিন দিদার; ঠিকানা: নরসিংহপুর, সখিপুর, শরীয়তপুর। ৩. বিল্লাল গাজী — পিতা: আলী হোসেন গাজী; ঠিকানা: নসিমপুর ফেরিঘাট। ৪. ইসমাইল তালুকদার — পিতা: নথির বিভিন্ন অংশে নামের তথ্যে অসংগতি রয়েছে; ঠিকানা: ইব্রাহিমপুর, চাঁদপুর সদর। ৫. মঞ্জু হাওলাদার — পিতা: মৃত কালু হাওলাদার; ঠিকানা: দক্ষিণ গুণরাজনী, চাঁদপুর সদর। ৬. খোরশেদ হাওলাদার পিতা: মৃত কালু হাওলাদার; ঠিকানা: দক্ষিণ গুণরাজদী, চাঁদপুর সদর। ৭. ইউনুস মোল্লা পিতা: আজিজ মোল্লা; ঠিকানা: আরশিনগর, সখিপুর, শরীয়তপুর। ৮. নান্টু মালদ পিতা: ফজলুল হক মালদ; ঠিকানা: আরশিনগর, সখিপুর, শরীয়তপুর। ৯. চান্দু চৌকিদার পিতার নাম উল্লেখ নেই; ঠিকানা: ইব্রাহিমপুর, চাঁদপুর সদর।

১০. হাফেজ খান পিতার নাম উল্লেখ নেই; ঠিকানা: ইব্রাহিমপুর, চাঁদপুর সদর। ১১. হারুন হাওলাদার পিতার নাম উল্লেখ নেই; ঠিকানা: মঠখোলা, চাঁদপুর সদর। ১২. আলআমিন পিতার নাম উল্লেখ নেই; ঠিকানা: গুণরাজনী, চাঁদপুর সদর। ১৩. রাসেদ পিতার নাম উল্লেখ নেই; ঠিকানা: গুণরাজদী, চাঁদপুর সদর। ১৪. বিল্লাল গোলদার — পিতা: মৃত ছিদ্দিক আলী গোলদার; ঠিকানা: ইব্রাহিমপুর, চাঁদপুর সদর। ১৫. ইমান হোসেন পিতা: আলী শেখ; ঠিকানা: ইব্রাহিমপুর, চাঁদপুর সদর। ১৬. কাশিম পাটোয়ারী পিতার নাম নথিতে অসংগত; ঠিকানা: ইব্রাহিমপুর, চাঁদপুর সদর। ১৭. কাদির পাটওয়ারী পিতা: কাশিম পাটওয়ারী; ঠিকানা: ইব্রাহিমপুর, চাঁদপুর সদর। ১৮. সুরুজ শেখ পিতা: রুহুল আমিন শেখ; ঠিকানা: ইব্রাহিমপুর, চাঁদপুর সদর। ১৯. আবু তাহের গোলদার পিতা: ছিদ্দিক আলী গোলদার; ঠিকানা: নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। ২০. সাহাদাত গাজী পিতা: সাহাবুদ্দিন গাজী; ঠিকানা: ইব্রাহিমপুর, চাঁদপুর সদর। ২১. মো. ইকবাল পিতার নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা উল্লেখ নেই; চাঁদপুর সদর।

সাক্ষীদের নাম : ১. আব্দুর রশিদ গাজী পিতা: মো. ফজল হক গাজী। ২. শাহাজান রাঢ়ী পিতা: রুহুল আমিন রাঢ়ী। ৩. মো. হোসেন দিদার পিতা: আবদুল করিম দিদার। ৪. কেরামত দিদার পিতা: আশ্রাফ আলী (নথির অন্য অংশে নামের বানানে অসংগতি রয়েছে)।
৫. মান্নান শেখ পিতা: কাদির শেখ। ৬. মো. আলম চৌধুরী পিতা: সেলিম চৌধুরী। ৭. সিরাজ ছৈয়াল পিতা: করিম ছৈয়াল।

৮. রাজু শেখ পিতা: নাছির শেখ। ৯. নুরুল ইসলাম পিতা: মৃত আবদুল লতিফ কাজী; ঠিকানা: হিন্দুলি, ইব্রাহিমপুর, চাঁদপুর সদর।
মামলার নথি অনুযায়ী, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারা এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৭(ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট সহকারী বা উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি আদেশটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নথিতে মামলার নম্বর ৯, তারিখ ২ মার্চ ২০২৬ এবং বার্ষিক নম্বর ২২৯ উল্লেখ রয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)-এর কাছে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষায় প্রশাসনের এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

সম্পর্কিত খবর