
কচুয়া প্রতিনিধি: চাঁদপুরের কচুয়া ও হাজীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাদলা ও গৌড়েশ্বর গ্রামের মাঝখানে দীর্ঘদিনের চলাচলের সরকারি রাস্তা ও প্রবহমান খালের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গত ৪ অক্টোবর কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু নাছির স্বাক্ষরিত এক নোটিশে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কাদলা গ্রামের হাফিজ উদ্দিন ও মানিক হোসেনকে তাঁদের ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কচুয়া উপজেলার কাদলা মৌজার ৩৯৯ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২৬৫১ দাগের পাশে সরকারি হালট ও খাল রয়েছে। এ অবস্থায় মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আবেদনকারীর মালিকানাধীন ২৬৫১ দাগের বিপরীত পাশে সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ২৭৫৯ ও ২৬৩৫ দাগের মধ্যবর্তী প্রায় ০.০৬ একর জমিতে অবৈধভাবে দুটি চারচালা টিনের বসতঘর ও দুটি দুচালা টিনের রান্নাঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করা হচ্ছে।
এতে সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। নোটিশে আরও বলা হয়, সরকারি স্বার্থ রক্ষায় আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের নিজ দায়িত্বে স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন জানান, ১২৮ নম্বর কাদলা মৌজার ২৬৪৬ ও ২৬৪৭ দাগে তাঁর নিজের এবং তাঁর চাচার মালিকানাধীন জমি রয়েছে।
ওই জমির ওপর দিয়ে ১৫ থেকে ১৬ ফুট প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তার উত্তর পাশে প্রবহমান খাল রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, চলাচলের রাস্তা ও খালের সরকারি জায়গা প্রভাব খাটিয়ে দখল করে কাদলা গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে হাফিজ উদ্দিন ও মানিক উদ্দিন স্থায়ীভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন।
হেলাল উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, সরকারি জায়গা দিয়ে খাল ও রাস্তা প্রবাহিত হওয়ার পরিবর্তে তাঁর মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তা ও খাল চলে গেছে। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।



