
এস. এম ইকবাল, ফরিদগঞ্জ : জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ঢাকার বনানীর বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাঁকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক ও সংসদীয় জীবন: মরহুম মুহম্মদ শফিকুর রহমান দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে চারবার দলীয় মনোনয়ন পান (২০০১, ২০০৮, ২০১৮ এবং ২০২৪ সাল)।
এর মধ্যে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর-৪ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি অনেকটা নিভৃত জীবনযাপন করছিলেন। শিক্ষাজীবন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ: মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মা আয়েশা খাতুন।
তিনি ১৯৬৫ সালে ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জন এবং ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক এবং ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও উচ্চতর শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রগতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। সাংবাদিকতা ও অন্যান্য পেশাগত অবদান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ১৯৭০ সালে ‘দৈনিক ইত্তেফাক-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা হয়।
স্বাধীনতার পর ইত্তেফাকে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০২ সালে ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর স্বাধীন কলামিস্ট হিসেবে দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ এবং দৈনিক জনকণ্ঠের জনপ্রিয় ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় নিয়মিত কলাম লিখে সুধীমহলে ব্যাপক সমাদৃত হন। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও এবং ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিন ও যুক্তরাজ্যে সাংবাদিকতার ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পেশাজীবীদের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে তিনি টানা দুই মেয়াদে (২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং এর আগে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্বরত ছিলেন। পারিবারিক জীবন: মৃত্যুকালে শফিকুর রহমান স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের অজস্র শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।



