
স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুরের ইতিহাসে ট্রাফিক বিভাগে সর্বোচ্চ জরিমানা আদায় হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে। এ মাসে ১১২২টি মামলায় মোট ৪১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। যা পূর্ববর্তী আগস্ট মাসের তুলনায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা বেশি। চাঁদপুরে এর আগে কোনো এক মাসে এত বেশি জরিমানা আদায়ের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।
সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে চাঁদপুরে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এক মাসে ১১২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৪৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলার বিপরীতে ৪১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের ৩২৯টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে দায়ের করা ১১২২টি মামলার মধ্যে বাসের বিরুদ্ধে ২২টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ৬২টি, পিকআপের বিরুদ্ধে ৭২টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ২৩টি, প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে ৬টি, সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ৩৫৬টি, ইজিবাইকের বিরুদ্ধে ১৫৩টি, ভ্যান ও রিকশার বিরুদ্ধে ৩৩টি, মাইক্রোবাসের বিরুদ্ধে ১১টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৪২৮টি মামলা করা হয়েছে।
জব্দ করা যানবাহনের বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ জানায়, বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে মোট ৩২৯টি যানবাহন রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক এবং ভ্যান-রিকশার বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা করা হয়েছে।
লাইসেন্সবিহীনভাবে গাড়ি চালানো, হেলমেট ব্যবহার না করা, ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত অনিয়ম, অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, নতুন বাজার-পুরান বাজার ব্রিজের গোড়া, শপথ চত্বর, বাসস্ট্যান্ড, ওয়্যারলেস ও বাবুরহাটসহ ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাই, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চাঁদপুর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই-এডমিন) প্রবীর কুমার দাশ বলেন, সড়কে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিরসন এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিদিন নিয়মিত চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা কমানো। যারা ট্রাফিক আইন অমান্য করবেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন চালাবেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে নামাবেন কিংবা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান।”
টিআই-এডমিন আরও বলেন, জরিমানা আদায়ই ট্রাফিক পুলিশের মূল উদ্দেশ্য নয়। মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চালক ও পথচারী সবাই সচেতন হলে দুর্ঘটনা কমবে এবং যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।




