
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৭ অক্টোবর (বুধবার) চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
তিনি বলেন, সবাই মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে। আমরা সকল পূজামণ্ডপকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনব। পূজামণ্ডপগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে কোনো অপতথ্য প্রচার না হয়। সকলের অবস্থান থেকে পূজার সময় সহযোগিতা করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সবাই পূজা উদযাপন পরিষদকে সহযোগিতা করবেন।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর পৌরসভাসহ সকল পৌরসভাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনো পূজামণ্ডপে সমস্যা থাকলে তা আমাদের জানাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার হলে আমাদের জানাবেন অথবা জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে অবহিত করবেন। পূজার সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগ আলাদা মেডিকেল টিম রাখবে। পূজামণ্ডপের আশপাশে দোকান বা বাজার থাকতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই যাতে মেলা না বসে। কিশোর গ্যাংয়ের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল ছিদ্দিকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম এন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. খলিলুর রহমান গাজী, সহ-সভাপতি দেওয়ান মো. শফিকুজ্জামান, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চাঁদপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. মাহবুব আলম, চাঁদপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূর আজম বীন আখতার (শরীফ), জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সুজন সরকার, চাঁদপুর সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, চাঁদপুর পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন সরকার জয়, চাঁদপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. নেওয়াজ শরীফ, চাঁদপুর পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রজন চন্দ্র দে এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমীর দত্ত।
সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পর্কে জেলার তথ্য উপস্থাপন করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলসহ সকলের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পূজা উদযাপন সুন্দরভাবে করা যাবে। আনসার সদস্যদের সরকার যে সম্মানী দিয়েছে, এর মধ্যেই কাজ করতে হবে। সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। আপনারা আজকের মধ্যেই সিসি ক্যামেরা বসাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়াতে পারে। যে যেখানে থাকবেন, আমাদের জানাবেন। পূজা উপলক্ষে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। আমরা যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব।
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল হিসেবে। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য আমার সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে হতে হবে। পূজায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মধ্যে ব্যবহার করতে পারলে ভালো। সমন্বিত প্রচেষ্টায় যেকোনো কাজ সুন্দরভাবে করা যায়।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং থেকে সাবধান থাকতে হবে। তারা র্যালিতে বিশৃঙ্খলা করতে পারে। তাদের দিকে নজর রাখতে হবে। বিষয়টি প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। এ দেশটা আমাদের, এ দেশটা আমাদের সকলের।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় মণ্ডপগুলোতে রাতে নিরাপত্তা জোরদার রাখতে হবে। পূজায় ফেসবুকে একটি গোষ্ঠী গুজব ছড়ায়। এ বিষয়ে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে যাতে গুজব ছড়াতে না পারে, সেদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে দক্ষ আইটি এক্সপার্ট নিয়োগ করতে পারেন। এতে কোথাও বিশৃঙ্খলা ঘটানোর চেষ্টা হলে আগাম তথ্য পাওয়া যাবে। পূজা-সম্পর্কিত কোনো তথ্য আমাদের কাছে প্রদান করলে আমরা দ্রুত তা মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় প্রচার করব। আমরা চাই, চাঁদপুরে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হোক। চাঁদপুর প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিকরা এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ডিজিএম মো. শহিদুল আলম, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম (সদর-কারিগরি) প্রকৌশলী ইউনুস আলী, সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ, হাজীগঞ্জ সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা অজিত কুমার সাহা, মতলব দক্ষিণ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কিশোর কুমার দেব, চাঁদপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সম্পাদক স্বামী সুবলা নন্দ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ফরেশ মালাকার, মহিলা সম্পাদিকা কল্পনা সরকার, চাঁদপুর পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের মহিলা সম্পাদিকা মাধুরী রানী সাহা, জেলা তথ্য অফিসের ঘোষক মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এবার চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় ২৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৪১টি, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ২৩টি, হাইমচর উপজেলায় ৬টি, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ২৯টি, মতলব দক্ষিণে ৩৯টি, মতলব উত্তরে ৩৬টি, কচুয়া উপজেলায় ৩৯টি এবং শাহরাস্তি উপজেলায় ১৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ক্যাপশন: গতকাল শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।



