
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট :“যে উদ্যোক্তা ভবিষ্যৎ দেখতে পায়, সেই সফল ব্যবসায়ী হয়”—দূরদর্শিতা, নিজের দক্ষতা সম্পর্কে সচেতনতা, সততা এবং সঠিক নিয়মে ব্যবসা পরিচালনাকে সফলতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী রানার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান।
তিনি বলেন, বাজারের আগামী দিনের চাহিদা ও সম্ভাবনা আগে থেকে অনুমান করতে পারাই একজন সফল উদ্যোক্তার অন্যতম প্রধান শক্তি। একই সঙ্গে সততা, সঠিক নিয়ম এবং দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘শিল্প-শিক্ষায়তন সংযোগ উন্নয়ন’ বক্তৃতামালার ১৮তম পর্বে মূল বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাফিজুর রহমান খান।
ডিআইইউর উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাসুম ইকবাল। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন এবং উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামান দিদার।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে হাফিজুর রহমান খান বলেন, চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করার সময় থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি বড় শিল্পগোষ্ঠী গড়ে তোলা এবং দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম ও নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়াই তাঁকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়েছে।
তিনি বলেন, অনৈতিক উপায়ে দ্রুত বড় হওয়ার চেয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি গড়ে তোলাই প্রকৃত সাফল্যের পথ। একজন উদ্যোক্তাকে নিজের দক্ষতা সম্পর্কে জানতে হবে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা উপলব্ধি করে সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, “বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতেই উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিভাগ রয়েছে। আশা করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা এ আয়োজন এবং হাফিজুর রহমান খানের দিকনির্দেশনা থেকে অনেক কিছু অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে তারাও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
উল্লেখ্য, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে ‘শিল্প-শিক্ষায়তন বক্তৃতামালা’ ২০১৬ সালে শুরু হয়। এ আয়োজনের প্রথম পর্বে দেশি-বিদেশি ১৩ জন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন। তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ে ‘পথিকৃৎ উদ্যোক্তাদের জীবনসংগ্রাম’ শীর্ষক একটি গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে।
ড. মো. সবুর খানের সম্পাদনায় প্রকাশিত ওই গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড শিগগিরই প্রকাশিত হবে বলে জানা গেছে। এতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে জন্মগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের জীবনবৃত্তান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হবে।




