
মতলব উত্তর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নান্নু মিয়া (৮৪)-এর দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে।শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে তার গ্রামের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাকে বিদায় জানানো হয়।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় খাগুরিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মতলব উত্তর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. সাদেকুর রহমানের নেতৃত্বে চৌকস একদল পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে মরহুম যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নান্নু মিয়াকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
এছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিনে উপজেলা প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এরপর খাগুরিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদর্শন শেষে খাগুরিয়ায় নিজ গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও ইউপি সচিব। এদিকে জানাজায় অংশ নিতে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা নান্নু মিয়ার ছোট ভাই বেলজিয়ামপ্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া এবং ছোট ছেলে পাভেল বেলজিয়াম থেকে ছুটে আসেন।
জানাজায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন, মরহুমের বড় ছেলে রুবেল মিয়া বাবু ও ভাগিনা আবু ইউসুফ মিয়া অংশগ্রহণ করেন। এদিকে তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, মরহুম যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা নান্নু মিয়া ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের একজন খ্যাতিমান যোদ্ধা ছিলেন। তিনি উপজেলার ৩নং বাগানবাড়ি ইউনিয়নের দুইবার সফলভাবে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।




