সানজিদার পাশে চাঁদপুরে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।

আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সানজিদার একটি ভিডিও পরবর্তীতে তাঁর ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এই কথাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় নানা আলোচনা। কেউ বিষয়টিকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশে এটিকে সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিককে ব্যঙ্গ বা অসম্মান করার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু হয় ট্রোল, কটূক্তি ও নানা ধরনের মন্তব্য। এতে সানজিদা ও তাঁর পরিবার বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে।

তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন সমালোচনা তীব্র হয়ে ওঠে, তখন সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক নিজেই তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতা করা সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সানজিদার ভিডিওকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। তাই এর প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা সব পোস্টগুলো ডিলিট করে দেওয়ার অনুরোধ করছি।”

সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যের পর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পায়। যে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেখানে তিনি শিক্ষার্থীকে আক্রমণ না করে বরং তাঁর মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করার আহ্বান জানান।
এরই মধ্যে সানজিদার পরিবারের সঙ্গে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের একটি ছবি সামনে আসে। সেখানে তাঁকে ওই শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে একই ফ্রেমে দেখা যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনেকে বলছেন, সামান্য একটি রসিকতাকে কেন্দ্র করে একজন তরুণীকে সামাজিকভাবে হেয় করার পরিবর্তে তাঁর পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয়।

রাজনীতিতে সমালোচনা, কটূক্তি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যের জবাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি যখন ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি না নিয়ে একজন তরুণীর ভুল বা রসিকতাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন এবং তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ান, তখন সেটি নিঃসন্দেহে ভিন্ন বার্তা বহন করে।

ঘটনাটি নিয়ে তাঁর অবস্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তিনি প্রতিশোধের পরিবর্তে সহনশীলতার কথা বলেছেন, বিতর্ক বাড়ানোর পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে পুরো ঘটনার শেষ পর্বে শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংসদ সদস্যের সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রোল নয়, ক্ষমা’ এই বার্তাটিকেই সামনে এনেছে।

একটি মজার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের শেষটা যদি হয় ক্ষমা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মানের মধ্য দিয়ে তবে সেটিই নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।

চাঁদপুরের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার পরিবর্তে এমন সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মানের চর্চা আরও বিস্তৃত হবে এটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

সম্পর্কিত খবর