
হাইমচর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে মো. অভির বিরুদ্ধে ২৯ নম্বর চরশলাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে বাঁশ দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এতে আব্দুর রাব্বানী নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টিফিনের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন আহত শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকরা। জানা যায়, টিফিনের সময় ২৯ নম্বর চরশলাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মাঠে খেলছিল।
একপর্যায়ে তারা অভির বাড়ির সামনে গেলে অভি একটি বাঁশ নিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রাব্বানী ও মো. ইসরাফিলসহ কয়েকজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে আব্দুর রাব্বানীর কোমরে গুরুতর আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।
পরে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিস মুনমুন আক্তার আহত দুই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রাব্বানীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।আহত শিক্ষার্থী আব্দুর রাব্বানী জানায়, “আমরা দুপুরে খেলা করার সময় অভি ভাইদের বাড়ির সামনে গেলে অভি ভাই একটি বাঁশ নিয়ে এসে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। আমার ও আমার বন্ধুদের শরীরে বাঁশের কয়েকটি বাড়ি লাগে। একটি বাড়ি আমার কোমরে পড়ে। এখন কোমর সোজা করতে পারছি না, অনেক ব্যথা করছে।”আরেক আহত শিক্ষার্থী মো. ইসরাফিল জানায়, “আমরা খেলা করার সময় হঠাৎ অভি ভাই আমাদের গালমন্দ করেন। এরপর একটি বাঁশ নিয়ে আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। আমার হাতে এবং আমার বন্ধু রাব্বানীর কোমরে বাঁশের কয়েকটি বাড়ি লাগে।
এতে আমার হাতেও অনেক ব্যথা করছে। রাব্বানীর কোমরে বেশি আঘাত লেগেছে। সে এখন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।” বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিস মুনমুন আক্তার বলেন, “আজ টিফিনের সময় আমার স্কুলের বাচ্চারা মাঠে খেলতে গেলে হঠাৎ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে মো. অভি এসে বড় একটি বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। কয়েকজন শিশুর শরীরে আঘাত লাগে। তারা ভয়ে দ্রুত স্কুলে চলে আসে।
এর মধ্যে এই দুই শিশুর শরীরে বেশি আঘাত লাগে। তাদের অবস্থা দেখে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।” তিনি আরও বলেন, “আমি হাসপাতালে আসার আগেই বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। এখন উপজেলা শিক্ষা অফিসার যে ব্যবস্থা নেবেন, আমরা সে অনুযায়ী অগ্রসর হব।”আহত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “হঠাৎ শুনতে পাই আমার ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। এসে দেখি হাইমচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে অভি আমার ছেলেকে মারধর করে কোমরে আঘাত করেছেন। আমরা এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেব।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. অভির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




