ফরিদগঞ্জে ২৭ বছর পর আদালতের রায়ে জায়গা বুঝিয়ে দিল প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার : পাঁচ শতাংশ জায়গা দখল নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে মামলা হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। দীর্ঘ ২৭ বছর পর আদালতের রায় পেয়ে জায়গার প্রকৃত মালিক মনসুর গাজীকে বুঝিয়ে দিল চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ।

সেই জায়গা আবার প্রতিপক্ষরা দখল নেওয়ার জন্য পাঁয়তারা করছে। এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রিয় দর্শক ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১১ নং পূর্ব চরদুখিয়া ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামে বেড়ি বাজার সংলগ্ন মনসুর গাজী বাড়িতে।

আদালতের রায় পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসির নির্দেশে এসআই একরামুল হক উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে জায়গাটি বুঝিয়ে দেয় প্রকৃত মালিককে। এ সময় সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জায়গাটি নির্ধারণ করে মালিক মনসুর মিয়াকে দখল বুঝিয়ে দেয়।

পাঁচ শতাংশ জায়গা নিয়ে ওই এলাকার রতন, মানিক ও তসলিমের সাথে মনসুর গাজীর আদালতে দেওয়ানি মামলা হয়েছে।

এই জায়গা দখল নিয়ে মনসুর গাজীর ছেলে সোহেল গাজীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে প্রতিপক্ষরা। অবশেষে চিকিৎসা নিয়ে সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। আদালত উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে মনসুর গাজীকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়।
অবশেষে সেই জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আসলে প্রতিপক্ষরা লোকজন পাঠিয়ে ঝামেলা করার চেষ্টা। অবশেষে জায়গার মালিক তার সম্পত্তির উপর স্থাপনা উঠিয়ে দখল করে নেয়।

এদিকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জায়গাটি দখল নিতে গেলে প্রতিপক্ষরা রাতে ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই মোশারফকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

জায়গার মালিক মনসুর গাজীর ছেলে সোহেল গাজী জানান, বহু বছর পর জায়গাটি বুঝিয়ে দেওয়ায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কিন্তু আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষদের কাছ থেকে টাকা পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই মোশারর রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়ে কিছু মালামাল গাড়িতে উঠিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের এই আচরণ জনমনে অনেকটা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রতিপক্ষরা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ মাদক ব্যবসা সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে। মাদক ও ডাকাতি মামলার আসামি হয়ে প্রতিপক্ষ রতন কারাগারে রয়েছে। তারপরেও এই অপরাধীদেরকে প্রশ্রয় দিছে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা।

এ বিষয়গুলো উদ্বোতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশ কমবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সম্পর্কিত খবর