
মোঃ রুহুল আমিন : জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ করলেন প্রশাসনের কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিস। জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের জীবনের প্রাপ্তি, ঋণ, স্মৃতি ও অনিশ্চয়তা নিয়ে আবেগঘন একটি লেখা প্রকাশ করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর সেই লেখার পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার কিছু ঘটনা। বিশেষ করে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের সময় তাঁর অবস্থান ও সরকারি অর্থের সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখার বিষয়টি অনেকের স্মৃতিতে রয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে অঞ্জনা খান মজলিস লিখেছেন, জীবনের ৫০ বছর পেরিয়ে পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, এই তো সেদিনের কথা। অথচ এরই মধ্যে অনেক সময় চলে গেছে। সামনে আর কত দিন আছে, তা-ও অনিশ্চিত। তাই যাঁদের স্নেহ, ভালোবাসা, প্রার্থনা, সমর্থন ও অনুপ্রেরণায় তিনি বেড়ে উঠেছেন, তাঁদের কাছে যেতে এবং তাঁদের প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ইচ্ছে করে।
জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও লিখেছেন, দুঃখের মধ্যে আনন্দ এবং প্রতিকূলতার মধ্যে ভালো কিছু খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাপ্তিতে আলহামদুলিল্লাহ বলে সন্তুষ্ট থেকেছেন। অন্যকে দোষারোপ না করে নিজের ব্যর্থতার দায়ভার নিজেই বহন করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। জন্মদিনে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং যাঁদের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ রয়েছে—সবার কাছে ক্ষমা ও দোয়া চেয়েছেন।
চাঁদপুরের সেই অধ্যায়ঃ
অঞ্জনা খান মজলিস চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক থাকাকালে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের ব্যয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সময় জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবিত ব্যয় এবং সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপচয় নিয়ে তাঁর অবস্থানকে অনেকে সাহসী প্রশাসনিক ভূমিকা হিসেবে স্মরণ করেন।
তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের প্রভাব নিয়ে সে সময় নানা আলোচনা ও অভিযোগ সামনে এসেছিল। অভিযোগ ছিল, জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অঞ্জনা খান মজলিস সেই প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলে চাঁদপুর জেলার শিক্ষক,আইনজীবী বিভিন্ন নাগরিক সমাজের অংশীজন সর্বোপরি সাধারণ মানুষ মনে করেন।
চাঁদপুরে দায়িত্ব পালনের পর তাঁর বদলির ঘটনাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছিল। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর বিদায় অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছিল বলে স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করে।
জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনাঃ
একজন সরকারি কর্মকর্তার মূল্যায়ন শুধু তাঁর পদ-পদবি দিয়ে হয় না; দায়িত্ব পালনের সময় জনস্বার্থ, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও জবাবদিহির প্রতি তাঁর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।অঞ্জনা খান মজলিসের কর্মজীবনের চাঁদপুর অধ্যায় এ কারণেই অনেকের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।
তাঁর ৫০তম জন্মদিনে শুভকামনা—তিনি সুস্থ থাকুন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন এবং দেশের মানুষের কল্যাণে আরও অবদান রাখুন।
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি অঞ্জনা খান মজলিস ও তাঁর পরিবারের সবাইকে সুস্থতা, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। জনকল্যাণে কাজ করার তাওফিক দিন এবং তাঁর কর্মজীবনকে মানুষের উপকারে আসার আরও সুযোগে সমৃদ্ধ করুন।
শুভ ৫০তম জন্মদিন, অঞ্জনা খান মজলিস। মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ প্রশাসনিক ভূমিকার প্রত্যাশা রইল।




