হাজীগঞ্জে ইমামে রাব্বানী দরবারে ওরছে ইমামে রাব্বানী ও হিজবুর রাসুল সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ইমামে রাব্বানী দরবার শরিফে ৩৮তম ওরছে ইমামে রাব্বানী ও হিজবুর রাসুল সম্মেলন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন নর্থ আমেরিকার মুসলিম অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ড. আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম বাবর আজহারী।

তার বক্তব্য তিনি কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত নয়—আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁকে তিন ঘণ্টার ইংরেজি বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনমন্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে আরও অধ্যয়ন করার এবং বক্তব্য দিয়ে থাকলে তওবা করার পরামর্শ দেন তিনি।

বক্তব্যে ড. সাইফুল আজম বাবর আজহারী বলেন, “সরকারে হোক, সরকারের বাইরে হোক, কেউ যদি আমার নবীর আনীত কোরআনের কোনো হুকুম নিয়ে বলে—এটি বর্তমান সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, তাহলে আমি উম্মতে মুসলিমার পক্ষ থেকে বিতর্কের আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশের বিটিভিসহ টেলিভিশন মিডিয়া খুলে দেওয়া হোক। তিন ঘণ্টার জন্য স্যার আপনিও আসেন, উম্মতে মুসলিমার পক্ষ থেকে আমরাও থাকব। ইংরেজিতে বিতর্ক হবে। আপনি আপনার বক্তব্য ইংরেজিতে বলবেন, আমিও আমার বক্তব্য তুলে ধরব।” তিনি আরও বলেন, “দেখি আপনার দৌড় কতটুকু, আর কোরআনের জোর কতটুকু! যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলতে কেউ সাহস না করে।”

আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ড. বাবর আজহারী বলেন, মুসলিম মনীষীদের আইনবিষয়ক অবদান সম্পর্কে আরও অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, মুসলিম মনীষীরা আন্তর্জাতিক আইনসহ আইনশাস্ত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর অবদান এবং ‘কিতাবুল মাবসুত’ গ্রন্থের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আইনশাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের অবদান সম্পর্কে আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগ থাকা উচিত। তিনি বলেন, “আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব, পড়েন। স্যার, আপনি সেক্যুলার আইন আমেরিকা-ইংল্যান্ডে পড়েছেন। সেই কারণে এই দিকটা আপনার কাছে অন্ধকার থেকে গেছে।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, কোরআন ও হাদিসের বিধান নিয়ে বিতর্কের ক্ষেত্রে মুসলিম আলেমদের জ্ঞান ও অবস্থানকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।

এ সময় তিনি আইনমন্ত্রীকে তাঁর বক্তব্য পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান। আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে ড. বাবর আজহারী বলেন, “স্যারের প্রতি অনুরোধ থাকবে, যদি স্যার এই কথা বলে থাকেন, অনুরোধ করব স্যার তওবা করে নিয়েন।” তিনি আরও বলেন, কারও ঈমানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া তাঁদের দায়িত্ব নয়। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সবার ঈমান হেফাজত এবং সবার জন্য আল্লাহর কাছে হেদায়েত কামনা করেন।

উল্লেখ্য, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কোরআনকে সংবিধান হিসেবে গ্রহণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন বলে প্রচারিত হয়েছে, “কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না। কারণ কোনো ভার্স আমরা পরিবর্তন করতে পারব না।” তাঁর এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ৩৮তম ওরছে ইমামে রাব্বানী ও হিজবুর রাসুল সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইমামে রাব্বানী দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীন পীর সাহেব, আওলাদে রাসুল আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল-মাদানী।

অনুষ্ঠানে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবায়ের, অধ্যক্ষ আল্লামা এস এম ফরিদ উদ্দিন এবং দরবার শরিফের খলিফা মাওলানা মোশারফ হোসেন হেলালীসহ অন্যরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দরবার শরিফের খলিফা মাওলানা মুফতি আবুল হাশেম শাহ মিয়াজী।

বাদ আসর থেকে সারারাত ওয়াজ মাহফিল চলে। ফজরের নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন দরবার শরিফের পীর সাহেব। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও মুসল্লি অংশ নেন।

সম্পর্কিত খবর