
এস. এম. ইকবাল, ফরিদগঞ্জ : বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশে নিয়োগ পেয়ে কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। কোনো আনুষ্ঠানিক ছুটি বা অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ছয় মাস অনুপস্থিত থাকার পর হঠাৎ মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সহকর্মী শিক্ষকরা।
এর প্রতিবাদে একযোগে ক্লাস বর্জন করেন তারা। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ৈতলী কে.এ. সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায়। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আরিফুজ্জামান ওই প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে প্রায় ছয় মাস পর মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
বিধিবহির্ভূতভাবে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের প্রতিবাদে শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অধ্যক্ষ ওই শিক্ষকের স্বাক্ষর বাতিল করলে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর আশ্বাস দিলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকরা পুনরায় পাঠদানে ফিরে যান। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের বাসিন্দা মো. আরিফুজ্জামান এনটিআরসিএর সুপারিশে কড়ৈতলী কে.এ. সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর রমজানের ৪০ দিনের ছুটি শেষে গত ৪ ও ৫ এপ্রিল মাত্র দুই দিন শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এরপর কোনো লিখিত আবেদন বা কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।
দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় গত ১৬ জুলাই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী ঠিকানায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান। ২২ জুলাই ওই নোটিশের জবাবে তিনি গুরুতর অসুস্থতার কারণে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানান। তবে কোনো ছুটি মঞ্জুর না হওয়া সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন মো. আরিফুজ্জামান। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লাস বর্জন করেন। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম ওই প্রভাষকের স্বাক্ষর বাতিল করেন।
একই সঙ্গে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভাষক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘যোগদানের পরই আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। চিকিৎসকের পরামর্শে ছয় মাস পূর্ণ বিশ্রামে ছিলাম। সুস্থ হয়ে আজ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছি। কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নেব।’ কড়ৈতলী কে.এ. সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি প্রবিধান অমান্য করে একটানা প্রায় ছয় মাস অনুপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার হঠাৎ এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করায় শিক্ষকেরা ক্লাস বর্জন করেন। পরে তার স্বাক্ষর বাতিল করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম আমাকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন। আমি সরকারি কাজে অফিসের বাইরে থাকায় আগামী রোববার সকালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘কোনো শিক্ষক নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকে হঠাৎ এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




