ফরিদগঞ্জে তারুণ্যের উৎসবে অতিথির সারিতে ওলামা লীগের সভাপতি

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : ফরিদগঞ্জে তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৫) এ সভায় দেখা যায় অতিথির প্রথম সারিতে ওলামালীগের সভাপতি মিজানুর রহমান স্থান পেলেও, সেখানে স্থান হয়নি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার আহমেদ খন্দকার ও ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা নুরুল ইসলামের।

জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ২০১৪ সাল থেকে এই পদে থেকে এলাকার সাধারণ মানুষসহ বিএনপির অনেক নেতা- কর্মীকে মামলা হামলাসহ নানান রকম হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। অথচ তিনিই তারুণ্যের উৎসবের অনুষ্ঠানে অতিথির সারিতে ছিলেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার আহমেদ খন্দকার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের হাত থেকে দেশ রক্ষা হলেও সরকারি প্রোগ্রামে কোন শক্তির বলে আওয়ামী লীগের দোসররা এখনও অতিথির সারিতে বসে জানি না। এগুলো আমাদের জন্যে লজ্জাজনক।

তিনি আরো বলেন, ইউনিয়নের আয়োজন, যেহেতু উপজেলা থেকে নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অতিথিবৃন্দ এসেছেন, তাদের সম্মান রক্ষার্থে আমরা চুপ ছিলাম। ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা নুরুল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে (প্রতিনিধি) মাহমুদুল হাসান মিরাজ বলেন, অতিথির তালিকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান করেছেন। প্রথম সারিতে ওলামালীগের সভাপতি বসে, কিন্তু যারা আন্দোলন করে ফ্যাসিস্ট হাসিনার হাত থেকে দেশ রক্ষা করলো তারা স্থান না পেলেও আওয়ামী লীগের দোসররা প্রথম সারিতে স্থান পায়। এটা আমাদের জন্যে লজ্জাজনক। এর সকল দায় দায়িত্ব চেয়ারম্যানের। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন মোহাম্মদ রাজন শেখ বলেন, তারুণ্যের উৎসব অনুষ্ঠানে ওলামা লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান কোনো দাওয়াতী মেহমান না, আমি ওনাকে কোনো দাওয়াত দেই নি। হঠাৎ প্রোগ্রাম চলাকালীন অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে আমি বক্তব্য দেওয়ার সময় ওনি পাশ দিয়ে বসে গেছেন। বক্তব্য শেষ আমি চেষ্টা করেছি তাকে সরানোর জন্যে। ওনার ব্যাপারে সবাই জানে ওনি কেমন। জোরপূর্বক কিছু করতে গেলে অনুষ্ঠানের সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

এমন ঘটনার জন্যে আমি নিজেই দুঃখ প্রকাশ করছি। ৮ নং পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৫) পরিষদের সামনে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হোসেন আহম্মদ রাজনের সভাপতিত্বে ও ছাত্র প্রতিনিধি সাংবাদিক শাকিল মুশফিকের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার আহম্মদ খন্দকার, ইউনিয়ন জামায়াতে সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম, সেক্রেটারি ওসমান গনি নাঈম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে মাহমুদুল হাসান মিরাজ সহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠান হলেও ১২ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে মাত্র ৫ জন উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর