
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল যেন দালালের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দালালদের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছে হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের দালাল চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালের হয়ে দালালরা রোগীদের জেনারেল হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। রোগীদের পাশাপাশি দালালদের হাতে অনেকটা জিম্মি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।
দালালদের এমন উৎপাত ঠেকাতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা বেশ কয়েকবার দালাল ধরেছেন। তেমনি বুধবার (৮ জানুয়ারি ২০২৫) হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে সরকারি ঔষধ নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে তিন নারী দালালকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীরা।
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়ার নির্দেশে এসআই গাজী কালাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে তিন নারী দালালকে আটক করেন। নারী দালাল আটকের ঘটনা জানতে পেরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, চাঁদপুর সদর ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল ইমরান খাঁন হাসপাতালে এসে নারী দালালদের দালালির ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে তাদেরকে সাজা দেন।
এদের মধ্যে আটক নারী দালাল ইসরাত ও খাদিজাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নাসিমাকে তিনদিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা জানান, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে বেশ কয়েকজন ডাক্তার রয়েছে, তারা দালালদের ব্যবহার করে সুবিধা নিচ্ছে। কিছু অসাধু ডাক্তার ও নার্স তারা দালালদের মাধ্যমে সরকারি ঔষধ অন্যত্র পাচার করছে।
এছাড়া এ সকল দালাল বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালের ডাক্তারদের ভিজিটিং কার্ড নিয়ে এসে রোগীদের ধোঁকা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং হাসপাতালের সামনে যে সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে সেগুলোর মালিক পক্ষ এ সকল নারী দালালকে ব্যবহার করে চিকিৎসা-বাণিজ্য করছে। এই সরকারি হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা।
এদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিনজনকে সাজা প্রদান করার পর তাদেরকে মডেল থানার এসআই গাজী কালাম আটক করে জেলা কারাগারে হস্তান্তর করেন।




