
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১১নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নটি দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি অংশ মেঘনার পশ্চিমে অপরটি মেঘনার পূর্ব পাড়ে অবস্থিত।
৪ নং ওয়ার্ডের নরদ্দী গ্রামে প্রায় ২০ বছর পূর্বে জেলা প্রশাসকের সরকারি খাশ সম্পত্তি দখল করে বসবাস শুরু করেন ইকবাল পাটোয়ারীর বাবা লতিফ পাটোয়ারী। বাবা ও ছেলে দু’জন এলাকার মানুষের ফসলী জমিতে কৃষিকাজ করে চালাতেন সংসার। কোনো এক কাজের মধ্য দিয়ে পরিচয় হয় চাঁদপুর সদর উপজেলা ও পৌর সভার সাবেক এক জনপ্রতিনিধির সাথে।
তারপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। ঐ নেতার আশীর্বাদ যেনো সূর্যের আলোর চেয়ে আরো প্রখর। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর উক্ত নেতার আশীর্বাদে যেনো হাতে পেয়ে গেলেন আলাদীনের চেরাগ। সেই যে শুরু তা তো আর শেষ নেই। ইকবাল পাটোয়ারী নিজেই গড়ে তোলেন পাটোয়ারী বাহিনী। এই বাহিনীর নেতৃত্বে চরাঞ্চলে গড়ে তোলেন লুটপাট, চুরি, সন্ত্রাসী, আর ত্রাসের রাজত্ব।
নদীর তীরবর্তী ভেসে উঠা চরগুলো নানা কারনে প্রতি বছরই বেড়ে উঠছে। এ চর গুলো সরকারের সম্পত্তি। নিয়ম অনুযায়ী যারা চরের আশপাশে বসবাস করেন তাঁরাই সরকার থেকে লীজ এনে ফসল ফলাবেন। অথবা পাশের জমির মালিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লীজ পাবেন। তাই স্থানীয় চরের বাসিন্দারা যাদের সামর্থ্য আছে তারা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে জমিজমা করে। স্থানীয় চরের বাসিন্দারা অভিযোগে জানান, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সদর উপজেলা ও পৌর সভার সাবেক জনপ্রতিনিধির আশীর্বাদে ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী উক্ত চরে অঘোষিত মাফিয়াডন হিসেবে কাজ শুরু করেন। চাঁদপুর জেলার মেঘনা নদীর ওপারে ও শরীয়তপুরের কিছু অংশ নিয়ে বিশাল চরাঞ্চল এলাকা।
যেখানে বসবাস করেন দিন মজুর কৃষক শ্রেণীর মানুষ। চরাঅঞ্চলের বসবাসরত চরবাসীর উপার্জনের মাধ্যম হচ্ছে কৃষিকাজ, দিন মজুর, নদীতে মাছ ধরা। কিন্তু এদের রক্তকে চোষে অর্থবিত্তের মালিক হচ্ছে একটি শ্রেণির গুটিকয়েক ব্যক্তি। তাদেরই একজন হচ্ছে ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী। যার নামটি চরের মানুষের কাছে মূর্তিমান এক আতংকের নাম।
এ যেনো এক অজানা আতংক। কেউ জীবনের ভয়ে মুখ খুলতে চায় না। সরজমিনে গিয়ে এই চরবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় ক্ষমতা ও ক্ষমতাসীন এবং প্রভাবশালীরা কিভাবে রক্ত চুষে খাচ্ছেন চরের বসবাসরত মানুষ গুলোর।
চরের বাসিন্দা সাধারণ মানুষের ফসলী জমি দখল করে শত শত একর জমিতে ইকবাল পাটোয়ারীর নেতৃত্বে গড়ে তুলেছেন মাছের খামার, গবাদিপশুর খামার, হাস মুরগীর খামার, বিভিন্ন অপকর্মের জন্য গড়ে তোলেন বাগান বাড়ি। অভিযোগ রয়েছে, ঐ প্রকল্পে তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা, ব্যক্তি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির আনাগোনা ছিলো। দিনের পর দিন ঐ সকল প্রকল্প দেখার নাম করে সেখানে রাত দিনে চলতো নানা কর্মকাণ্ড। চরের বাসিন্দাদের কাছে এ সব বিষয়ে রয়েছে নানা মুখরোচক গল্প।
এই চর গুলোতে গেলে দেখা যায়, শত শত একর জমি দখল করে নানা উপায়ে গড়ে তোলা প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহের উপায় কেড়ে নেওয়ার চিত্র। ফসলী জমি দখল করে প্রভাবশালীদের ইন্ধনে ইকবাল পাটোয়ারী গংরা দীর্ঘ ১৬/১৭ বছর ধরে চরের এই জমি গুলো থেকে আধুনিক মাটি কাটার মেশিন ভেকু দিয়ে কোটি কোটি টাকার মাটি ব্রিকফিল্ডে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত ইকবাল পাটোয়ারীর সাথে অভিযোগ বিষয়ে বার বার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কল করলেও তিনি রিং হওয়া সত্তেও তা রিসিভ করেননি। এদিকে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী চরের দীর্ঘ দিনের অঘোষিত মাফিয়া ডন হিসেবে খ্যাত ইকবাল পাটোয়ারীর ও তার আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের অনতিবিলম্বে আটক করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার গুলো।
পাশাপাশি অন্যায় ভাবে গরীব অসহায় কৃষকের জমি দখল করে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা বিভিন্ন প্রকল্প গুলো স্ব স্ব কৃষকের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।




