
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের পুরানবাজার ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আলোচিত জুয়াড়ী যুবলীগের সক্রিয় সদস্য মিজানুর রহমান খান বাদলকে ২৪ অক্টোবর নাশকতায় মামলায় আটকের পর আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই লোকমান সাত দিনের রিমান্ডে আবেদন জানিয়ে আদালতের মাধ্যমে যুবলীগের সক্রিয় সদস্য জুয়াড়িদের গডফাদার মিজানুর রহমান খান বাদলকে কারাগারে প্রেরণ করে। চাঁদপুর মডেল থানার এফআইআর নং-২৫, তারিখ- ২৭ আগস্ট, ২০২৪ঃ মডেল থানায় নাশকতা মামলা তাকে আটক দেখানো হয়েছে।
সেই মামলায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি বাহার মিয়ার নির্দেশে এস আই লোকমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পুরান বাজার মেরকাটিস রোড থেকে দালাল মিজানুর রহমান খান বাদলকে আটক করে।
এ সময় মিজানুর রহমান খান বাদলের সহযোগী ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মজিদ খান ডেঙ্গু ওরফে(ডেঙ্গু চোরা) দৌড়ে পালিয়ে যায়।
২৫অক্টোবর চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বাহার মিয়া গ্রেফতারের বিষয়টি দৈনিক চাঁদপুর খবরকে নিশ্চিত করেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, ২৫অক্টোবর যুবলীগের সক্রিয় সদস্য মো: মিজানুর রহমান খান বাদল কে চাঁদপুর মডেল থানার এফআইআর নং-২৫, তারিখ- ২৭ আগস্ট, ২০২৪ঃ ধারা-১৪৩/১৪৯/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/ ৩০৭/৩৭৯/৪৩৬/৪২৭/৫০৬(২)/১০৯ পেরুন কোড, ১৮৬০ মামলায় আটক করা হয়। তার পিতা-মৃত আব্দুর রশিদ খান, মাতা-মনোয়ারা বেগম, সাং- মেরকাটিজ রোড, পুরান বাজার, ২নং ওয়ার্ড, চাঁদপুর পৌরসভা, খানা ও জেলা-চাঁদপুর। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।
জানা গেছে, আওয়ামী সরকার পতনের পর শীর্ষ নেতা কর্মীদের আশ্রয় দেয় মিজানুর রহমান খান বাদল। তার সহযোগী পুরানবাজার ১ নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি মজিদ খান ওরফে ডেঙ্গু চোরাকে আটক করতে গিয়ে তাদের দুজনকে একই সাথে ধাওয়া করে পুলিশ। অবশেষে একজন পালিয়ে গেলও জুয়ারীদের গডফাদার মিজানুর রহমান খান বাদল পুলিশের হাতে আটক হয়।
পুলিশ জানায়, ভাই ভাই ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান বাদলের সাথে অনেক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সখ্যতা ছিল। ৫ আগষ্টের পর চাঁদপুরে নাশকতা ও অগ্রি সংযোগের ঘটনায় সে জড়িত রয়েছে। সেই নাশকতা মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে আদালতে পাঠানো হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা করবে।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন,আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে এই মিজানুর রহমান খান বাদল তার ক্লাবে বড় ধরনের জুয়ার আসর বসিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া পুরান বাজারের মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারের সাথে তার ছিল গভীর সখ্যতা। অসহায় মানুষদের পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে তার ক্লাবে এনে দরবার করে লক্ষ লক্ষ টাকা বাণিজ্য করেছে মিজানুর রহমান খান বাদল ও তার সহযোগী ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মজিদ খান ডেঙ্গু।
সরকার পতনের পূর্বে এই মিজানুর রহমান খান বাদল ও তার সহযোগী মজিদ খান ডেঙ্গু সন্ত্রাসী বাহিনীদের দিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রদের উপর হামলা চালিয়েছে।
দীর্ঘ বছর যাবত মধুসূদন স্কুল মাঠের কর্নারে সরকারি জায়গা দখল করে ভাই ভাই স্পোটিং ক্লাব দিয়ে মিজানুর রহমান খান বাদল জুয়া মাদক ও দরবার বাণিজ্য করে আসছে এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
ওয়াজ মাহফিলের নামে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করে সে নিজেই আত্মসাৎ করতো।
এছাড়া তার এই ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাবের খেলাধুলার নামে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
চাঁদপুরের ৩ আসনের সাবেক এমপি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনির বড় ভাই জেআর ওয়াদুদ টিপুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল মিজানুর রহমান খান বাদল।
এছাড়া পুলিশি চাকরি ও সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে এই শীর্ষ দালাল মিজানুর রহমান খান বাদল ও তার সহযোগী আব্দুল মজিদ খান ডেঙ্গু অনেক অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
তাদের আয়ের উৎস ছিল জুয়া ও দালালি ব্যবসা। এছাড়া আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে তাদের সাথে সখ্যতার মাধ্যমে মানুষদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতো।




