মতলবে এতিমের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছে খালা ও নানা

সমির ভট্টাচার্য্য ঃ মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৫নং উপাদী উত্তর ইউনিয়নের গাজী বাড়ী এলাকায় মা রানু বেগমের মৃত্যুতে এতিম পুত্র ও কন্যা সন্তানের পোস্ট অফিসে রাখা ১৫লক্ষ টাকা খালা রোকেয়া বেগম ও নানা মোঃ মান্নান গাজী আত্মসাতের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

গত ২৬জুলাই শুক্রবার বেলা ১১টায় সরজমিনে জানা যায়, ২০২৩সালের ২৭ মে রানু বেগম সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে রানু বেগমের দ্বিতীয় স্বামী মোঃ সুহাদ হোসেন বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফনে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রে, চাঁদপুরে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বৈধ অভিভাবক হিসেবে আপোষনামা দিয়ে লাশ দাফন করেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উত্তোলিত ওয়ারিশ সনদে স্বামীর নাম বাদ দিয়ে তারা ওয়ারিশ সনদ উত্তোলন করেছেন খালা ও নানা।

এছাড়াও নিহত রানু বেগমের পিতা মোঃ মান্নান গাজী মোকাম বিজ্ঞ মতলব সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, চাঁদপুর মোকদ্দমা নং- ৩৮/২০২৩ইং গার্ডিয়ানশীপের জন্য তার ছেলে মোঃ নুর আলম গাজীকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে মোকদ্দমা দায়ের করে। উক্ত মোকদ্দমার ৬নং শর্তে নাবালক পুত্র ও কন্যার লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ যাবতীয় ব্যয়ভারের জন্য সঞ্চয়পত্রে রক্ষিত ১৫ লক্ষ টাকা তফসিল বর্ণিত নাবালক নমিনী হওয়ার কারণে ভবিষ্যৎ জীবনে জন্য উত্তোলন করার জন্য পিতা ও পুত্র মোকদ্দমা দায়ের করে। উল্লেখ্য, মৃত রানু বেগম বিগত ২০২১সালের ১২ জুলাই প্রধান ডাকঘর পাল বাজার শাখায় চলতি হিসাব নং-৬-৫৪৩১০০০০-৮৮০১, রেজিঃ নম্বর- ২০২১-০৬৯২০৩৩ নাম্বারের পারিবারিব সঞ্চয়পত্রে চেক নং- ২১৬৭৩৫৫ এ ১৫ লক্ষ টাকা নাবালক শাহরিয়া খানকে নমিনী করে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র জমা রাখেন।

একাধিক এলাকাবাসী জানায়, রানু বেগমের প্রথম স্বামীর ঔরসে এই দুই এতিম সন্তান। তাদের ভরণ পোষনের নাম করে খালা রোকেয়া বেগম ও নানা মান্নান গাজী টাকাগুলো আত্মসাতের পায়তারা করছে। উক্ত টাকা উত্তোলন না করে লভ্যাংশের টাকা উত্তোলন করে এতিম দুই সন্তানের ভরণ পোষন করা সম্ভব। এছাড়াও রানু বেগমের নামে বহরী মৌজা ৯শতাংশ ভূমিও রয়েছে।

নিহতের দ্বিতীয় স্বামী সুহাদ হোসেন জানান, তারা এতিম সন্তানদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য আমার নাম ওয়ারিশ সনদ থেকে বাদ দিয়ে আমার শ্বশুর মান্নান গাজী ও আমার শ্যালক নুর আলম গাজী প্রার্থী ও প্রতিপক্ষ হয়ে বিজ্ঞ আদালতে গার্ডিয়ানশীপ মোকদ্দমা করেছেন। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে ওয়ারিশ সনদে আমার নাম অন্তভূক্তির জন্য আবেদন করলে তিনি তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বরাবর আবেদনটি প্রেরণ করেন।

খালা রোকেয়া বেগম জানান, আমরা এতিম দুই সন্তানের ভরন পোষনের জন্য টাকা উত্তোলন করতে চেয়েছি। টাকা আত্মসাতের জন্য নয়। এতোদিনতো কেউ খোজ খবর নেননি। টাকার জন্য এখন সবাই চলে এসেছে।

নানা মান্নান গাজী জানান, আমার মেয়ে রোকেয়া বেগমের পরামর্শে বিজ্ঞ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে গার্ডিয়ানশীপ পাওয়ার জন্য মোকদ্দমা দায়ের করেছি। টাকা পেলে ওই দুই সন্তানের নামেই রেখে দিবো।

ওই ওয়ার্ডের মেম্বার কামাল গাজী জানান, তারা ওয়ারিশ সনদ চেয়েছে। আমি স্বাক্ষর করে দিয়েছি। কোন ওয়ারিশ বাদ পড়লে আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশোধন করা যাবে। এতিম সন্তানের টাকার বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি।

৫নং উপাদী উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সহিদ উল্যাহ প্রধান জানান, ওয়ারিশ সংশোধনের কোন আবেদন পাইনি। আবেদন পেলে যাচাই বাছাই করে ওয়ারিশ সংশোধন করা হবে। এতিম দুই শিশুর টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আমি অবগত নই।

সম্পর্কিত খবর