ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এর ভূতুড়ে বিল! : গ্রাহকদের চাপিয়ে দিচ্ছে বাড়তি কোটি টাকা

মামুন হোসাইনঃ ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃক ভূতড়ে বিলে গ্রাহকরা দিশেহারা চলতি বছরে মিটার নং ১৭০৭৮২ ফেব্রুয়ারী মাসে বিল ৬০০ টাকা মার্চে ১২০০ টাকা,এপ্রিলে ২৪০০ টাকা মে মাসে ২৮০০ টাকা। এমন হারে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল। বিদ্যুৎ বিল সংশোধনের জন্য গ্রাম অঞ্চল থেকে ছুটে আসে গ্রাহকরা।

অভিযোগ দিলে বিল কমে আসে অর্ধেক। এই ভূতুড়ে বিল সম্পর্কে জানতে গিয়ে জানা যায় ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম এর নির্দেশে ভূতুড়ে বিল তৈরী করা হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের কাছে থেকে এই তথ্য জানা যায় ।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সুত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিস এরিয়ায় গ্রাহক ১ লক্ষ ৫ হাজারের উপরে, সিস্টেম লস সমন্বয় করতে গিয়ে প্রতি মাসে ২০-২৫ লক্ষ ইউনিট গ্রাহকের উপর দিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়। যার বাজার মূল্য ১ কোটি টাকার উপরে। মার্চ,এপ্রিল,মে,জুন মাস। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী জানা যায়, গ্রাহক থেকে অতিরিক্ত ১ ইউনিটের বিলও বাড়তি নেওয়া যাবে না। সিস্টেম লস এর কারণ কি? তা জানতে গিয়ে জানা যায় প্রতি বছর গাছ কাটার জন্য বরাদ্দ আসে ৯-১০ লক্ষ টাকা, উল্লেখযোগ্য কোথাও তেমন গাছ কাটা হয় না, তারের উপরে গাছের ঢাল,পাতা ইত্যাদি থাকলে বিদ্যুৎ খরচ হয় যায়। তারে উপর গাছের ঢালের বিভিন্ন ¯হানে পড়ে থাকলে ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগে দিলে তেমন সাড়া পাওয়া যায় না। বরাদ্দ হালাল করতেই গ্রাহকরা দিতে হয় বাড়তি কোটি টাকার বিল। আরো জানা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ এর খামখেয়ালির কারণে সিস্টেম লস হয়,ঐ সিস্টেম লস সমন্বয় করতে গ্রাহকের উপরে প্রতিমাসে ১ কোটি টাকার চাপ পড়ে,তখনই মন গড়া বিদ্যুৎ বিল তৈরি করে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিস।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান ডিজিএম সাহেব ২০-২৫ লক্ষ ইউনিট সমন্বয় করা চাপ সৃষ্টি করেন,তিনি কর্মচারীদের বলেন কি হবে না হবে আমি বুঝবো,আমি যেভাবে বলবো সেভাবে করেন। চলতে জুন মাসে ২৫ লক্ষ ইউনিট সমন্বয় করার পরও আরো ৩০% সিস্টেম লস দেখা যায়,বর্তমানে সিস্টেম লস কমানোর জন্য বিদ্যুৎ থাকার পরেও গত ৪,৫ দিন ঘনঘন লোডশেডিং দেওয়া হয়। অথচ বিদ্যুৎ লাইন সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে সিস্টেম লস হওয়ার কথা ছিল না।

গ্রাহকরা আরো জানান বিদ্যুত বিল উঠিয়ে নেওয়ার ১৫-২০ দিন পরে বিদ্যুৎ বিল দেয়। তাও বিল দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার ৩,৪ দিন আগে আগে। যেন মিটারের সাথে মিলাতে গেলে এই দিক দিয়ে ১৫-২০ দিনের ইউনিট খরচ সমন্বয় দেখা যায়,কিন্তু তাও মিলে না।তাদের খামখেয়ালির কারণেও ভূতড়ে বিলের সাথে ও ঘুনতে হয় বাড়তি জরিমানা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহক নিজের মিটারে উল্লেখিত ইউনিটের সাথে বিলের কাগজের অতিরিক্ত একশ ইউনিটেরও বেশি পার্থক্য দেখতে পেয়ে বুধবার (২৬ জুন) সকালে বিলের কাগজ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে ছুটে যান ফরিদগঞ্জ পৌরসভার বাস¯ট্যান্ড এলাকার কনফেকশনারি দোকানদার আব্দুল আলী পাওয়ারী । বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বলতেই ১২৪৫ ইউনিটের উল্লেখিত ৫৫৩৮ টাকার বিলের কাগজ হয়ে যায় ১১০০ ইউনিটে ৩৩৬৭ টাকা।

মুহুর্তেই একই অভিযোগ নিয়ে আসতে দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন একালার বেশ কয়েকজনকে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শরিফ হোসেন জানান, আমার মিটারে এখনকার ইউনিট ৫২০০। অথচ বিদ্যুৎ অফিসের লোক আরো কয়েকদিন আগেই রিডিং তুলেছে ৫২৩০। তবে কি রিডিং তোলার পর এতোদিন কি আমি বিদ্যুৎ ব্যবহার করিনি.? বরং বিলের কাগজে উল্লেখিত তখনকার বিলের চাইতেও এখন কম হয় কিভাবে….? এরপর এখানে আসার পর ওনারা বিল পরিবর্তন করে কমিয়ে দিয়েছে। এমন ঘটনা গত কয়েকমাসই ঘটে আসছে৷ যে মাসে সময় করে বিদ্যুৎ এসে বিল কমাতে পারি সেমাসে কম দিতে পারি নয়তো অতিরিক্ত পুরো বিলই দিতে হয়। আর বিদ্যুৎ অফিসে আসলে আসা যাওয়ায় ৬০ টাকা করে ১২০ টাকা খরচ করতে হয়। এরকম ভোগান্তি আমাদের আর কত পোহাতে হবে…?।

অপর ভুক্তভোগী আব্দুুল জব্বার বলেন, দআর মিটারে রিডিং কম উঠছে কিন্তু, বিলের কাগজে বেশি, এহন এখানে আইসা বলাতে বিল কমাই দিছে’। এরকম আগেও বহুতবার হইছে, বিলের কাগজ লই আইলে বিল কমাই দেয়। তাইলে বিদ্যুৎ অফিসের লেকরা দিনের পর দিন ভুল করি আমাগোরে কিল্লাই ভোগান্তিতে হালায়।

ভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসা আরো কয়েকজন জানান, বিদ্যুৎ অফিসের লোক রিডিং তুলতেই যাননি। বিদ্যুৎ অফিসের মনগড় রিডিং তোলার কারনে আমাদের অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ অফিসের এমন হযবরল ব্যবস্থাপনার কারনে জনমনে প্রশ্ন উঠছে তবে কি যারা মিটারের সাথে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ মেলান না, তাদের কাছ থেকে কি মাসের পর মাস অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায় করছে পল্লীবিদ্যুৎ অফিস….?
মিটার নং ২৫৩২৭৬৪ ভূতড়ে বিল আসে

ফরিদগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত ঘরে বসে মিটার রিডিং তুলতেছে। না হলে ১১/৬/২৪ রিডিং অনুযায়ী ইউনিট ৭৭৫আর মিটারে (২৭/০৬/২৪) আছে ৫৮৭ যেখানে আসার কথা ১০০-১২০ ইউনিট সেখানে ৪০০ ইউনিট দেওয়া হয়েছে। বিল আসে ৩১৮৬ টাকা। ২৭ জুন অভিযোগ নিয়ে বিল হয়ে যায় ৮৫৪ টাকা। ভূতড়ে বিল সম্পর্কে সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরে ২০% গ্রাহক এসে বিল সংশোধন করে নিলেও ৮০% গ্রাহক তা জানে না।
ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের দ্বায়ছাড়া ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ কারণে বর্তমান ডিজিএম আমলে ২ জন সাধারণ মানুষ মৃত্যু বরণ করারও অভিযোগ উঠেছে।

ঘূর্নিঝড়ের রেমেল এর কারণে ফরিদগঞ্জ চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন সন্তোষপুর পল্লী বিদ্যুৎ এর কর্মকর্তাদের অবহেলা ও টাকা না দেওয়ার কারণে তার ছিঁড়ে তিন দিন ধরে তা অরক্ষিত অব¯হায় মাটিতে পড়ে থাকার কারণে রিয়াজ (২১) যুবক সে তারে জড়িয়ে বিদ্যুতায়িত মৃত্যু হয়। ৭জুন শুক্রবার বার এই ঘটনা ঘটে। ভিবিন্ন পত্রিকায় নিউজ হয়।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারনে ফরিদগঞ্জ সদরে সালেহা আক্তার গ্রাহকের শিল্প মিটা ১৫ দিন লাইন বন্ধ ছিল, কোন প্রকার উদ্যোগ নেয়নি পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।পরবর্তীতে চাঁদপুর এর জিএম ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি আলীম আজম রেজার হস্তক্ষেপে ১৫ দিন পরে দোকানে বিদ্যুৎ লাইন সরবরাহ করা হয়।

গত মার্চ মাসে ৪ রমজানে সদরে কাছিয়াড়া কারিদের দোকানের কাছে আব্দুর রহমান নামে যুবকের মৃত্যুতে তদন্ত আসলে,তদন্ত প্রতিবেদন যুবকের পিতা,মাতা পল্লী বিদ্যুৎ এর কর্মচারীদের সাজিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।পরবর্তীতে তদন্ত আসলে পল্লী বিদ্যুৎ এর কর্মচারিদের পিতা মাতা বানিয়ে গোপনে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার ও অভিযোগ রয়েছে।

বিলের কাগজে অতিরিক্ত ইউনিট তুলে গ্রাহকদের এমন হয়রানির বিষয়ে কথা হয় বিদ্যুৎ অফিসের বিল প্রস্তুতকারক এক কর্মকর্তার সাথে। বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রিডিং তোলার কারনে এমন সমস্যা হতে পারে। গ্রাহকরা সমস্যা নিয়ে আসলে আমরা পরিবর্তন করে দেই। কোন প্রকার ডকুমেন্টস ছাড়াই কেন পরিবর্তন করা হলো একাধিক বিলের কাগজ? এমন প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, এবিষয়ে আমি কিছু জানি না,বাকিসব ডিজিএম স্যার বলতে পারবেন।

চাঁদপুর পল্লীবিদ্যৎ সমিতি – ২ ফরিদগঞ্জ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডি.জি.এম) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন,
পল্লীবিদ্যৎ সমিতির যথেষ্ট জনবল সংকট রয়েছে। জনবল সংকটের কারনে বয়োজ্যেষ্ঠ কয়েকজনকে দিয়ে কাজ করানোর কারনে এমন মিসিংগুলো হচ্ছে। চাঁদপুর পল্লিবিদ্যুৎ অফিস আমাদের জনবল নিয়োগ দিলেও এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কাজে লাগানোর জন্য আমরা তাদের পাইনি।

সংশ্লিষ্ট কর্মী ভুল রিডিং তোলার পর অতিরিক্ত বিলের কাগজ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে আসার সাথে সাথে বিল প্রস্তুতকারকে বললেই কোন প্রকার যাচাই-বাছাই না করে বিল কমিয়ে সংশোধিত বিল দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,জুন আমাদের ক্লোজিং মাস, অফিসের সকল কর্মকর্তাদের প্রচুর কাজের পেশার যাচ্ছে, অন্য সময় হলে আরা যাচাই বাচাই করেই বিলের কাগজ সংশোধন করা হতো। যেহুতু অনেক আগে থেকে গ্রাহকদের এমন অভিযোগ। পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহকদের চলমান ভোগান্তুি লাঘবে তিনি কোন ব্যবস্থা পর্বে গ্রহণ করেছেন কিনা কিংবা করবেন কিনা এবিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, দআমারা যথাযথ জনবল পেলে এধরনের সমস্যাগুলো আর হবে না’।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ এর জিএম প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান বলেন ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতায় অসহনীয় লোডশেডিং এ মানুষজন কষ্ট পাচ্ছে। গ্রাহক পর্যায়ে ব্যবহৃত ইউনিটের অতিরিক্ত কোন বিল না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কারো দায়িত্ব পালনে অবহেলা পাওয়া গেলে নিশ্চয়ই নিয়ম অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আসবে। গ্রাহক পর্যায়ে মানসম্মত সেবা প্রদানে আপনাদের সহযোগিতা একান্ত ভাবে কাম্য।

সম্পর্কিত খবর