শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২৫৯টি ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

চাঁদপুর খবর রির্পোট: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২৫৯টি ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল ১৩নভেম্বর (সোমবার) শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: দেলোয়ার হোসেন মজুমদার স্বাক্ষরিত প্রেস রিলিজ এর মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।

এতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নখাতে বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদে গত পনের বছরে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ সকাল ১০.০০ টায় গণভবন হতে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২৫৯টি ভবন একযোগে উদ্বোধন করবেন। এ সব ভবনের ১১,২৩১টি শ্রেণিকক্ষে ৫,৬১,৫৫০ জন শিক্ষার্থীর আধুনিক ও উন্নত পরিবেশে পাঠ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রয়োজন গুণগত মানসম্পন্ন ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা।

কাঙ্খিত শিক্ষা সুনিশ্চিতের প্রয়াসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ করে চলেছে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে বিগত ১৫ বছরে বর্তমান সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৪১টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪০৫০০ (চল্লিশ হাজার পাঁচশত) কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ১৫,৩৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮৮,৪৭৫টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে।

ফলে, ৪৪,২৩৭৫০ জন শিক্ষার্থীর আধুনিক ও উন্নত পরিবেশে পাঠ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে গুণগত শিক্ষার প্রসার ঘটছে। এ ছাড়াও, বিগত ১৫ বছরে ১৩০৪২টি প্রতিষ্ঠানে (সরকারি/বেসরকারি) মোট ২৭৫৮.০০ কোটি টাকার মেরামত ও সংস্কার করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বর্তমানে ৩৬টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। এ সকল প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে আরও ১০,৯৬৮টি শ্রেণিকক্ষে ৫, ৪৮, ৪০০ জন শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণের সুযোগ পাবে। ফলশ্রুতিতে, গুণগত, মানসম্পন্ন ও কাঙ্খিত শিক্ষা সুনিশ্চিত হবে।

নির্মিত ভবনসমূহে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক টয়লেট, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য র্যাম্প ও পৃথক টয়লেট রয়েছে। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির বৈচিত্র বিবেচনায় ভবনগুলো পরিবেশ উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে।

এ সকল ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, বজ্রপাত নিরোধকের ব্যবস্থা রয়েছে। দেশব্যাপী নির্মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে একই রকম সুবিধা বিদ্যমান থাকায় শহর ও গ্রামের শিক্ষার পরিবেশে বৈষম্য দূর হয়েছে। শিক্ষার মানসম্পন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। ফলে, এসডিজি-৪ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষা অবকাঠামো খাতে সরকারের এ অনন্য অর্জন জনসাধারণের মাঝে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করেছে।

সম্পর্কিত খবর