চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় ৪ শিশুর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার : ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীদের চাপ। গত এক সপ্তাহে সাড়ে ৩০০ শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। চলতি মাসে প্রায় দেড় হাজার শিশু রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বিছানা সংকটে হিমশিম খাচ্ছে রোগী ও রোগীর লোকজন সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এসব রোগীদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাঁশি, ঠান্ডা জনিত শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। চলতি মাসে ৪ জন শিশু রোগী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়া আরো ১১ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের শিশু বিভাগে প্রচুর রোগী ভর্তি রয়েছে। বিছানা সংকটে হাসপাতালের করিডোর এবং বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন রোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত ২৩ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত এক সপ্তাহে সর্বমোট ৩৬৪ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এরমধ্যে ২৩ অক্টোবর ৫৭ জন, ২৪ অক্টোবর ৩১জন,২৫ অক্টোবর ৪৮ জন, ২৬ অক্টোবর ৫৪ জন,২৭ অক্টোবর ৩৬ জন,২৮ অক্টোবর ৩৭ জন, ২৯ অক্টোবর ৪৪ জন এবং ৩০ অক্টোবর সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৩ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানান শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্সরা। এসব শিশু রোগীদের মধ্যে ৬ মাস থেকে এক দেড় বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি এবং তারা জ্বর, ঠান্ডা,নিউমোনিয়া জনিত রোগে আক্রান্ত বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।

চাঁদপুর জেলা শহরে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে গত কয়েক দিনের গরম এবং শৈত প্রবাহের কারনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহে হাসপাতালে সাড়ে ৩,শর ও বেশি শিশু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

রোগীদের চাপে হাসপাতালের কোথাও ঠাঁই নেই। শিশু ওয়ার্ডের সবকটি বিছানা পরিপূর্ন হয়ে মেঝেতে ও রোগীদের জন্য বিছানা পাতা হয়েছে। এসব রোগীরা জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, খিচুনী এবং নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ও অনেক শিশু রোগীকে অভিভাবকরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে যান। একই ভাবে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন বয়স্ক রোগীরাও।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) ডাঃ মোঃ আসিবুল আহসান চৌধুরী এই বিষয়ে বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। একই ভাবে অসুস্থ হচ্ছেন বয়োবৃদ্ধরাও।

তিনি আরো বলেন, দেখা গেছে গত কয়েকদিনে গরম আবহাওয়া থেকে হঠাৎ রাতে ঠান্ডা এবং দিনে গরম পড়তে শুরু করেছে। বেশ কিছুদিন ধরে দিনে হালকা গরম, রাতে ঠান্ডা পড়ছে। যার কারনে বৃদ্ধ এবং শিশুরা হঠাৎ, জ্বর সর্দি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। তাই গত এক দেড় মাস ধরে হাসপাতালে শিশু রোগীদের প্রচুর চাপ দেখা দিয়েছে।

সম্পর্কিত খবর