চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দু-কর্মকর্তার খুঁটির জোর কোথায়

স্টাফ রির্পোটার: চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দু’কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে । সরকারি চাকুরী বিধি ভংগ করে ৫ বছরের অধিক সময়ে একই স্টেশনে চাকুরী করছেন ,তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ।

এ দু’কর্মকর্তা হচ্ছেন সহকারী উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ও আরেক সহকারী উপ-পরিদর্শক পেয়ার হোসেন। উক্ত দু’কর্মকর্তার খুটির জোর কোথায় ।তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ।

এরা দুজন বছরের পর বছর একই জেলায় চাকুরি করার সুবাদে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে তাদের সংখ্যতা গড়ে উঠে। যার ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকটা নিরাপদেই মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে সহকারী উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ও আরেক সহকারী উপ-পরিদর্শক পেয়ার হোসেন ০৭/৬/২০২০ এবং ০৪/৯/২০১৮ ইং অদ্যবধি কমরত আছেন ।

সহকারী উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরে ৫বছরের অধীন চাকুরী করছেন । খোদ এমন তথ্য চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক একে এম দিদারুল আলম লিখিতভাবে গত ১৩/৯/২০২৩ ইং (যার স্বারক নং -৪৪.০৪.১৩০০.১১৯.০০.১১৩.১৮-৫০১ )তারিখে অতিরিক্ত পরিচালক চট্রগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাঠিয়েছে ।

উক্ত চিঠিতে উক্ত সহকারী উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ও আরেক সহকারী উপ-পরিদর্শক পেয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনেছেন । তাদেরকে অন্যত্র বদলী ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করেছেন চিঠিতে ।

নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, এ দু’কর্মকর্তা অভিযানের পূর্বে মাদক ব্যবসায়ীদের ফোন করে অভিযানের বিষয়ে জানিয়ে দেয়। যার ফলে তাদেরকে আটক করা সম্ভব হয়না। এর বিনিময়ে তারা পেয়ে থাকে মাসে বড় অংকের মাসোহারা।

এছাড়া এ দু’কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর উপজেলার মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলার মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। সেখানে পেয়ে থাকেন মাসোহারা। এরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান করতে গিয়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দিবে বলে হুমকি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। যেমন চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা এলাকার সাজেদা বেগমের নিকট হতে ৪০হাজার টাকা, মতলবের নায়েরগাঁও এলাকার আওলাদের নিকট হতে ৬০হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরকম অনেক নিরীহ মানুষকে তারা বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে।

একটি সূত্র জানায়, এরা দু’জন একই জেলায় দীর্ঘদিন ধরে চাকুরি করার সুবাদে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের সাথে আঁতাত করে ব্যবসা করে আসছে। যার ফলে বড় মাদক ব্যবসায়ীরা আইনের হাতে ধরা পড়ছে না।

এ ব্যাপারে সচেতন মহল বলেন, এ দু’কর্মকর্তা ৪/৫ বছর একই স্থানে চাকুরি করার কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। যার ফলে তারা এদেরকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা করে থাকে। এ দু’কর্মকর্তার সাথে সম্পর্ক থাকায় আগের মতো মাদক ব্যবসায়ীরা আটক হচ্ছে না। প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে সচেতন মহলের প্রত্যাশা।

এ ব্যাপারে সাইফুল ও পেয়ার হোসেনকে ফোন দিলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

সম্পর্কিত খবর