চাঁদপুর উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুর উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শুধুমাত্র জুলাই মাসেই ৮১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে।

আর আগস্টের ১ তারিখ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত ১৪২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে।

এদিকে নতুন করে ২৪ ঘন্টায় আরও ৪৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালেই আছে ৫৮ জন। যা দিন দিন রেকর্ড রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালের দুই ডেঙ্গু ওয়ার্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডের ফ্লোর এবং বারান্দায় ডেঙ্গু রোগীদের মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০ জন, মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন, হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৬ জন, কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২২ জন, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়াও কিছু রোগী আছেন যারা বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.একে এম মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমাদের শুধুমাত্র সচেতন হতে হবে। চাঁদপুর সরকারি জেলা হাসপাতালে যে সকল রোগীরা ভর্তি আছেন, যার বেশিরভাগই ঢাকাতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে আছে আগত রোগীদেরকে আমরা মাইকিং এর মাধ্যমে সচেতন করছি। হাসপাতালে দুটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড রয়েছে, রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে, যার কারণে আমাদেরকে ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যেতে হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ডা. সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।

চাঁদপুর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন জানান, জুলায়ের মাঝামাঝি থেকে ডেঙ্গু রোগী সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড বেডের ডেঙ্গু ইউনিট করার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রেগুলোতে ডেঙ্গু কর্ণার করা হয়েছে। ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে ডেঙ্গু মশা চাঁদপুরে আসতে পারে। কিংবা লঞ্চে ডেঙ্গু মশা থাকায় অনেক যাত্রীর আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, সরকারি নির্দেশনার বাইরেও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পৌরসভা থেকে অতিরিক্ত জনবল নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোতে আলাদা ভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সম্পর্কিত খবর