যুব মহিলা লীগের ২১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুরে আলোচনা ও কেককাটা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি বলেছেন, যুব মহিলা লীগ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল নারী সমাজকে এই সংগঠনের পতাকাতলে একত্রিত করে সকল বাধা জয় করে নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, দুর্নীতিসহ সকল অত্যাচার-অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা।

তিনি গতকাল ৭ জুলাই শুক্ৰবার সকালে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যুব মহিলা লীগ চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজিত আলোচনা সভা ও কেককাটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, সংগ্রামের মধ্যদিয়ে যুব মহিলা লীগের জন্ম। যুব মহিলা লীগ নারী উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নারী ক্ষমতায়নে এবং নারী উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নারীর উন্নয়ন মানে পুরুষরা পিছিয়ে যাওয়া নয়। নারী উন্নয়ন মানে দেশ এগিয়ে যাওয়া। নারী শিক্ষা পাশাপাশি কর্ম ক্ষেত্রে নারীদের সুযোগ করে দিতে হবে। এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে নারীরা নেই। ইসলামের নাম ব্যবহার করে কিছু লোক নারী অগ্রযাত্রায় বাঁধা দিচ্ছে। অথচ ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ অধিকার দিয়েছে। তারা ইসলাম, দেশ ও দেশের মানুষের শত্রু।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজকে নারীরা যে সন্মান পাচ্ছে, কারণ তা শেখ হাসিনা সরকারই তার সুযোগ করে দিয়েছেন। নারীরা আজ রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, জনগনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় নারী, সচিব, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিরোধীদলের নেত্রী নারী, স্পিকার,মেট্রো রেল চালক, বিমানের পাইলট, বাস ট্রাক সহ বিভিন্নপরিবহন চালাচ্ছে নারীরা। সকল জায়গায় নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নারীর উন্নয়ন মানে পুরুষরা পিছিয়ে পরা নয়। তা সমাজের সকলের উন্নয়ন। নারী শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র সুযোগ করে দিতে হবে।

এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে নারীরা নেই। ইসলামের নাম ব্যবহার করে কিছু লোক নারী অগ্রযাত্রায় বাঁধা দিচ্ছে। দেশে আর কেউ গৃহহীন থাকবে না। শেখ হাসিনার সরকার এই জন্য কাজ করছেন। যারা ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল দেশকে অস্থিতিশীল করেছে, ২০০৪ সালে গ্রেনেড মেরে আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, তারাই হলো দেশের চিহ্নিত বিএনপি জামায়াত। তারা আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, ৫শ বিদ্যালয় পুড়িয়েছে। এদেরকে আর মানুষ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই আগামী নির্বাচনে ও নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

যুব মহিলা লীগ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি ও চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াসের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক ফারহানা জাফর রুমা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমা আলম সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, মোহাম্মদ আলী মাঝি, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুর ইসলাম নাজিম দেওয়ান, পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল,জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটোয়ারী, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়িকা অধ্যাপিকা মাসুদা নুর খান, যুব মহিলা লীগ চাঁদপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেবেকা সুলতানা, ফরিদগঞ্জ সভপতি সুলতানা রাজিয়া দিপু, শাহরাস্তি সভাপতি কাউন্সিলর রাবেয়া বকুল, থানা সভাপতি জান্নাত আক্তার শিখা, কচুয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক পূজা সাহা, মতলব দক্ষিণের সভাপতি শিউলী, সাধারণ সম্পাদক রানু বেগম প্রমুখ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন সকালে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে কেক কেটে ২১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

একই রকম খবর