চাঁদপুরে প‌রি‌বেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষ‌য়ে ইটভাটা মা‌লিক‌দের সা‌থে মত‌বি‌নিময়

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও প‌রিবেশ অ‌ধিদপ্ত‌রের যৌথ আ‌য়োজ‌নে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক স‌ম্মেলন ক‌ক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) সকাল সা‌ড়ে ১১টায় প‌রিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষ‌য়ে জেলার ইটভাটা মা‌লিক‌দের সা‌থে মত‌বি‌নিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহ‌মেদ জিয়াউর রহমান।

তিনি ব‌লেন, অ‌নেক ইটভাটা প‌রি‌বে‌শের ছাড়পত্র পায়‌নি, কিন্তু ইটভাটা চালা‌চ্ছেন, তা কিন্তু বৈধ পদ্ধ‌তি নয়। কোনভা‌বেই ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো যা‌বে না, যা প‌রি‌বেশ দূষ‌ণের বড় কারন। ইটভাটা এক কি‌লো‌মিটা‌রের ম‌ধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাক‌লে ইট ভাটা প‌রিচালনা করা যা‌বে না। ইটভাটার মা‌লিকরা ইট তৈ‌রির জন্য যে মা‌টি ব্যবহার ক‌রেন তা অ‌নেকেই আইন মে‌নে ক‌রে থা‌কেন না।

টপ স‌য়েল কে‌টে ফেলায় প্রতিবছর দেশের ৪০ লাখ হেক্টর ফসলী জ‌মির উর্বরতা ক‌মে যা‌চ্ছে। তি‌নি আরও ব‌লেন, সি‌সিব্লক নির্ভর ভাটা তৈ‌রির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নি‌র্দেশনা দি‌য়ে‌ছেন। আপনারা ব্লক ইট ও সি‌সি ব্লক তৈ‌রি ক‌রেন, কারন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প‌রি‌বেশ রক্ষায় ই‌টের বিকল্প হি‌সে‌বে ব্লক ইট ব্যবহার করার কথা ব‌লে‌ছেন। অ‌নে‌কেই ব‌লেন ব্লক ইট চ‌লে না, তা কিন্তু নয় ব্লক ই‌টের দাম বেশী হ‌লেও এতে প্লাস্টারর কস্ট ক‌মে যায়।

মা‌র্কেট তৈ‌রি কর‌তে হ‌লে মানুষ‌কে ব্লক ই‌টের বিষ‌য়ে আগামী দুই সপ্তা‌হের ম‌ধ্যে প‌রি‌বেশ ছাড়পত্র নেন, তা না হ‌লে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও হাই‌কো‌র্টের নি‌র্দেশনা মোতা‌বেক কাজ কর‌বো। মত‌বি‌নিময় সভায় পাওয়ার প‌য়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন পূর্বক বক্তব্য রা‌খেন পরি‌বেশ অ‌ধিদপ্ত‌রের উপ-পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান।

আরও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা ইটভাটা মা‌লিক স‌মি‌তির সাধারণ সম্পাদক শাহ মোঃ স‌ফিকুল ইসলাম, ইটভাটা মা‌লিক আব্দুল মান্নান খান বাচ্চু, আফজাল হো‌সেন খান, মিজানুর রহমান, আলী হায়দায়।

এসময় অ‌তি‌রিক্ত জেলা ম্যা‌জি‌স্ট্রেট উজলা রানী চাকমা, প‌রি‌বেশ অ‌ধিদপ্ত‌রের প‌রিদর্শক শম‌রিতা লিয়া, ম‌শিউর রহমান ব্রিকস এর প‌রিচালক আ‌নোয়ার হো‌সেন, জ‌সিম উ‌দ্দিন পাটওয়ারী, এ আর ব্রিকস ফি‌ল্ডের আব্দুর রহমান, এ এস এস ব্রিকস এর আক্তার হো‌সেন, না‌জিম উ‌দ্দিন উপ‌স্থিত ছি‌লেন। ইটভাটা মা‌লিকরা বক্ত‌ব্যে বলেন, যারা অ‌বৈধ তারা সামান্য কোন সমস্যার কার‌নে প‌রি‌বেশ অ‌ধিদপ্তরের ছাড়পত্র দি‌চ্ছে না। আমরা ব্যাংক‌লোন থে‌কে শুরু ক‌রে বি‌ভিন্ন মাধ্যাম থে‌কে টাকা নি‌য়ে ৪/৫ কোটি টাকা বি‌নি‌য়োগ ক‌রে ইটভাটা তৈ‌রি ক‌রি। কিন্তু তা চা‌লি‌য়ে যে‌তে অ‌নেক সমস্যা হ‌চ্ছে। দেখা যায় আমা‌দের অ‌নেক ইটভাটা ১০ থে‌কে ১৫ বছরে পূর্বে নির্মাণ করা হয়।

কিন্ত দেখা হেল ক‌য়েক বছর পূ‌র্বে এক‌টি স্কুল বা মাদ্রাসা তৈ‌রি হয় তখন প‌রি‌বেশ অ‌ধিদপ্তর তখন ছাড়পত্র দি‌তে চায় না। ব‌রিশাল লাক‌ড়ি দি‌য়ে পুড়া‌নো ইট চাঁদপু‌রে আ‌সে। তা অ‌নেক কম দা‌মে বি‌ক্রি করা হয়। আমরা ঝিকঝাক পদ্ধ‌তি ব্যহবার করায় আমরা কাঠ পোড়া‌নো বন্ধ ক‌রে‌ছি, এ‌তে আমা‌দের ইট তৈ‌রি‌তে ক‌স্টিং বেশী প‌রে।

সম্পর্কিত খবর