ফরিদগঞ্জে সিমেন্টের বস্তায় ওজনে কম থাকার ঘটনায় তুলকালাম কাণ্ড

মামুন হোসাইন: ফরিদগঞ্জে সেভেন হর্স সিমেন্টের বস্তায় নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম সিমেন্ট থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটি ভোক্তা অভিযোগ এখন বহুমাত্রিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংবাদ প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা অভিযোগ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ এবং সর্বশেষ সেই অভিযোগকে মিথ্যা ও মানহানিকর দাবি করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের, সব মিলিয়ে ঘটনাটি স্থানীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ভুক্তভোগী কামাল হোসেনের অভিযোগের মাধ্যমে। তাঁর দাবি, সেভেন হর্স সিমেন্টের একাধিক বস্তায় নির্ধারিত ৫০ কেজির পরিবর্তে কম ওজন পাওয়া গেছে। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ভোক্তা অধিকার, পণ্যের মান এবং বাজার তদারকির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদগঞ্জ বাস¯ট্যান্ড এলাকার জোবায়ের এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও সেভেন হর্স সিমেন্টের স্থানীয় প্রতিনিধি ফয়সাল আলম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। ওই পোস্টে সাংবাদিক এফ. এ. মানিক, শামীম হাসান, মেহেদী হাছান ও শাকিল হাসানের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অশোভন আচরণ, একটি বিষয় জোরপূর্বক মীমাংসার চেষ্টা এবং অর্থ বা অনৈতিক সুবিধা দাবি করার অভিযোগ তোলা হয়। তবে অভিযুক্ত সাংবাদিকরা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।

তাঁদের দাবি, অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর বুধবার (৮ জুলাই) সাংবাদিক এফ. এ. মানিক ফরিদগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।

জিডিতে ফয়সাল আলমকে বিবাদী করা হয়। সাক্ষী হিসেবে শামীম হাসান সজীব, মেহেদী হাছান এবং মুহাম্মদ শাকিল হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জিডিতে বলা হয়েছে, ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব বক্তব্য তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে বিষয়টি নথিভুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানা সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নথিভুক্ত রয়েছে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি ভোক্তা অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনাটি এখন আইনগত ও সামাজিক দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, একদিকে সেভেন হর্স সিমেন্টের ওজন ও মান সংক্রান্ত মূল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সিমেন্টের ওজন কম থাকার মূল অভিযোগের তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা কতটুকু এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।

সম্পর্কিত খবর