
আহম্মদ উল্যাহ/সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শনিবার (১৬ মে ২০২৬ খ্রি.) চাঁদপুরে আগমণ করবেন। তাঁকে বরণ করতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে চাঁদপুরবাসী।
দীর্ঘ ২২ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে চাঁদপুর শহর থেকে শুরু করে শহরতলী ও আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হয়েছে।
বিশেষ করে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের দু’পাশে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভিন্ন অবকাঠামোতে নতুন রঙের প্রলেপ, রাস্তার পাশের বড়ো বড়ো গাছের নিম্নাংশ লাল-সবুজ রঙে রাঙিয়ে তোলা এবং সরকারি স্থাপনাগুলোর সামনের অংশে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।
মাঠ, মঞ্চ তৈরির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে মঞ্চ তৈরি এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। আজ ১৬ মে তিনি চাঁদপুর সফরে এসে একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।
পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীবেষ্টিত সম্ভাবনাময় জেলা চাঁদপুর। নদী, ইলিশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এ জেলা সম্ভাবনায় ভরপুর হলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নদীভাঙন চাঁদপুরবাসীর অন্যতম বড় দুর্ভোগ। শিক্ষাখাতেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। বহু প্রত্যাশার চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া জেলায় একটি ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের।
এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের চাঁদপুর সফর ঘিরে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন জেলার মানুষ। তাদের বিশ্বাস, তার হাত ধরেই পিছিয়ে পড়া চাঁদপুরে উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। নদীভাঙন রোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ আসবে বলেও আশা করছেন তারা।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে সফরকে কেন্দ্র করে পাঁচটি ভেন্যুতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। প্রায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, তিনটি প্রধান কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছে।
জেলা প্রশাসন আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে দেশের আরও ২২ জেলার ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, সফরকে কেন্দ্র করে পাঁচটি ভেন্যুতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। প্রায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আজকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের চূড়ান্ত কর্মসূচি হলো : আজ ১৬ মে ২০২৬খ্রি. শনিবার সকাল ৮টা ৩০মি. ঢাকাস্থ নিজ বাসভবন হতে সড়ক পথে চাঁদপুর জেলার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সকাল সাড়ে ১১টায় পথিমধ্যে কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার লক্ষীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথসভায় যোগদান করবেন। এদিন বেলা ১২ টায় চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারস্থ খোদ্দ খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। পরে সাড়ে ১২টায় খোদ্দ খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিতি ও খাল খননের শুভ উদ্বোধন করবেন।
পরে দুপুর ১টা ১৫মি. চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। ১টা ৪৫ মি.বিশ্ব খাল পুন:খনন অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিতি ও খাল খননের শুভ উদ্বোধন করবেন। এদিন দুপুর ২টা ৩০মি. চাঁদপুর সার্কিট হাউসে উপস্থিতি ও বিরতি করবেন। পরে ৩টা ৩০ মি. চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।
পরে বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগদান করবেন। পরে সন্ধ্যা ৬টায় সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। এটি একটি সরকারি সফর। এসময় সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ তাঁর সফরসঙ্গী হবেন। গত সোমবার (১১ মে) প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেনের স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রে জারিকৃত স্মারক নং : ০৩.০০.২৬৯০,০০০.০০৫.৩৪.০০২.২৬-৪৪, এই চূড়ান্ত কর্মসূচি জানা গেছে।
এদিকে চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী এ সফরকে সফল করতে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং করেন জেলা বিএনপি সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমদ মানিক।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুরে ২০০ থেকে ২৫০ একর জমিতে ইপিজেড তৈরী করা সম্ভব। আমাদের দাবী থাকবে প্রধানমন্ত্রী এটি করে দিবেন। এটি বাস্তবায়ন হলে জেলার কমপেক্ষ দেড় লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো অর্থনৈতিকভাবে আরো সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন, কিছু ফ্যাসিবাদি লোক অর্থনৈতিক জোন নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য চড়াচ্ছে। তাদের অবগতির জন্য বলছি অর্থনৈতিক জোন অনুমোদিত। এটির কাজ চলমান থাকবে। পাশাপাশি ইপিজেড স্থাপন করাও আমাদের দাবী।
এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে আসবেন এতে জেলার জনগণ ও নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। সকলে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন উনার বক্তব্য শুনার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। গণমাধ্যমে প্রচার হলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে। এছাড়াও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। সফর প্রসঙ্গে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্ল্যা সেলিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সফর ও উৎসবমুখর করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি, এ সফর সফল ও সার্থক হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সফরকে সফল করতে সমন্বয়, আবাসন, শৃঙ্খলা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনাসহ কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঞ্চ ও আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা কারা হয়েছে। মাঠের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ও প্রচারণা কার্যক্রম ঘিরে দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
দীর্ঘ ২২ বছর পর চাঁদপুরে মাটিঁতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনের খবরে জেলা শহর ও গ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে, ২০০৪ সালে তারেক রহমান বিএনপির নেতা হিসেবে চাঁদপুর সফরে আসছিলেন। তার ২২ বছর পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এখানে আসছেন।




