
হাইমচর প্রতিনিধি : দিনের আলোয় তারা এলাকার প্রভাবশালী ‘মুরুব্বি’। সাধারণ মানুষের বিবাদ মেটান ‘সামাজিক বিচারে’। নীতি-নৈতিকতার বুলি আউড়ে বেড়ানো এসব নেতারই আসল রূপ বের হয়ে আসে রাতের আঁধারে।
তখন আর তারা সমাজসেবক নন, বরং পুরোদস্তুর ‘জুয়াড়ি’। রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও নিষিদ্ধ জুয়ার বোর্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের দেখা গেলো ডিবি পুলিশের অভিযানে।
রোববার (১০ মে ২০২৬) রাতে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী আমতলী এলাকার একটি ডুপ্লেক্স ভবনে অভিযান চালিয়ে এমনই এক চাঞ্চল্যকর জুয়ার আসর গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আসর থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদেরকে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরভৈরবী ৩নং ওয়ার্ডের হাদিস আলী হাওলাদারের ডুপ্লেক্স ভবনে অভিযান চালানো হয়।
সেখানে নিচতলার একটি কক্ষে জুয়া খেলা চলছিলো। অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া এসআই মনির হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা ও জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার (১১ মে ২০২৬) হাইমচর থানায় ১৮৬৭ সালের প্রকাশ্য জুয়া আইনের ৪ ধারায় মামলা (মামলা নং-১৪) দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন হাইমচরের রাজনীতির পরিচিত মুখ।
তারা হলেন: এসএম কবির (৫০), সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, পারভেজ হাওলাদার (৪৮), চরভৈরবী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার, মঞজুরুল হক ওরফে নাঈম সরকার (৫১), হাইমচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, দেলোয়ার হোসেন (৫১), সাবেক ইউপি সদস্য।
এছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের পদধারী নেতা মাহবুব সরদার (৫৫), বাদল মুন্সী (৫৪) এবং খোকন (৫৮)। জানা যায়, রাজনৈতিক ময়দানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে বিরোধ থাকলেও জুয়ার আড্ডায় ছিলো তাদের নিয়মিত যাতায়াত। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পারভেজ হাওলাদার, এসএম কবির ও নাঈম সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত। অথচ একই বোর্ডে জুয়া খেলতে দেখা গেছে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতাদেরও। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে চরভৈরবী ও আমতলী এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলো বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের পাশাপাশি জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ নির্মূলে জেলাজুড়ে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।




