
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ আশিকাটি গ্রামে বিএস রেকর্ড সংশোধনী মামলা চলমান থাকাকালীন সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভূয়া দলিল তৈরির মাধ্যমে বিএস খতিয়ান করে অন্যের কাছে সম্পত্তি বিক্রির সেই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রভাবশালী একটি পরিবার। এ নিয়ে শামছুল আলম, মাহাবুব আলম, রফিকুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম, জামাল কাজী ও হাসিনা বেগম বাদী হয়ে চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবাদী সুজন কাজী, হাছন কাজী, ডলি বেগম, মুক্তা বেগম, হাসিম কাজী, কাশেম কাজী ও কাজলী বেগম। এছাড়াও এলজিইডি সড়কের কোল ঘেঁষে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করারও অভিযোগ উঠেছে ক্রয়কৃত সম্পত্তির মালিক নাছির হোসেন এর বিরুদ্ধে।
অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩৫নং আশিকাটি মৌজার সিএস ১৩৬ নং খতিয়ানে মাইনুদ্দিম খানের মৃত্যুতে তার মেয়ে আম্বিয়া খাতুন আপোষ চিহ্নিত মতে নালিশী সাবেক ৯৯৮ দাগে ১০ শতাংশ মালিক হয়ে এসএ জরিপ আমলে ১২২ নং খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত হয়।
পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি আম্বিয়া খাতুন তার দখলকৃত ১৯৬৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত ৯৭৫১ নং ছাপকবলা দলিল মূলে ১২ শতাংশ সম্পত্তি খলিলুর রহমান, মজিবুর রহমান, আঃ বারেক ও মিঠুন কাজীর কাছে বিক্রি করেন। দলিল মূলে ১২ শতাংশ উল্লেখ থাকলেও ক্রেতাগণ ৯৯৮ নং দাগে ১০ শতাংশ জমি দখল বুঝে পায়। উক্ত ক্রয়কৃত সম্পত্তি সমবন্টনে আড়াই শতাংশ হারে মালিক হন।
চারজনের মালিকানার মধ্যে আঃ বারেক কাজী তার প্রাপ্ত আড়াই শতাংশ সম্পত্তি ১৯৮৪ সালের ২১ মে তারিখে জয়নাল আবেদীনের নিকট বিক্রয়ে দখলার্পণ করলে জায়নাল আবেদীন মালিক হয়ে ৫ শতাংশ জমির মালিক হন। পরবর্তীতে মিঠুন কাজী তার প্রাপ্ত আড়াই শতাংশ সম্পত্তি দখল সহ ৬ শতাংশ সম্পত্তির মালিক ভোগ দখল করে আসলেও তার নামে ৫ শতাংশ সম্পত্তি রেকর্ড হওয়ার কথা থাকলেও তা না হয়ে ৩ শতাংশ রেকর্ড হয়। মিঠুন কাজী পেশাগত কারনে অন্যত্র থাকায় বিবাদীরা তাদের পূর্ববর্তীগণের নামে রেকর্ড করে নেয়।
শামছুল আলম ও মাহাবুবুল আলমের ২ শতাংশ সম্পত্তি বিবাদীগণের পূর্ববর্তী আঞ্জুমা খাতুনের নামে ১৮৭৭ নং দাগে ৪ শতাংশ রেকর্ড হয়ে আছে। এর মধ্যে ৩ শতাংশ সম্পত্তি অন্য পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেন বিবাদীগণ। মামলার বাদীপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে গত বছরের ২৪ জুন চাঁদপুর আদালতের দারস্থ হন।
পরবর্তীতে ২৬ আগস্ট আদালতে জবাব দেয়ার জন্য বলা হলেও তারা জবাব দেননি এবং চলতি মাসের ২৩ তারিখে পরবর্তী হাজিরার তারিখ দেয়া হয়েছে। এতেই তারা দখল দেখানোর জন্য এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা। আদালতে মামলা চলাকালীন আপত্তিকৃত উক্ত সম্পত্তি দখলের জন্য বাদীগণের দেয়া টিনের বেড়া সরিয়ে বাউন্ডারি দিয়ে যাচ্ছেন। মামলার বাদী সফিকুল ইসলাম, জামাল কাজী ও হাসিনা বেগম বলেন, আমাদের বাবার নামে বিএস রেকর্ড না হওয়ায় তারা আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাদের দখলে নিয়ে যেতে চায়। আমরা বাধ্য হয়ে কোর্টে মামলা করেছি, তারপরও তারা তাদের দখল অব্যাহত রেখেছেন। আমরা প্রশাসনের নিকট সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বিবাদীরা বলেন, দলিল ও বিএস রেকর্ড সূত্রে আমরা আমাদের সম্পত্তি দখল করে আছি। ওনারা আমাদের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা দিয়েছে, মামলার রায় তাদের পক্ষে আসলে আমরা জায়গা ছেড়ে দিবো। এদিকে ক্রয়কৃত সম্পত্তির মালিক নাছির হোসেন পার্শ্ববর্তী এলজিইডি পাকা সড়কের ৬ ইঞ্চি রেখে দেয়াল নির্মাণ করতে দেখা যায়। যেখানে কমপক্ষে ৩ ফিট রাখার বিধান থাকলেও তিনি তা করেন নি।
সাংবাদিকদের সাথে অশোভ আচরণ করে তিনি বলেন, এটা তো অস্থায়ীভাবে করা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে না। আপনারা কেন আসছেন, আমি ওনাদের সাথে বুঝবো। এটা কোন আপনাদের কাজ না। তার এমন ব্যবহারে আশপাশের অনেকেই নিন্দা প্রকাশ করেছন। সড়কের কোল ঘেঁষে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করার বিষয়টি স্থানীয় আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অবগত করলে তারা প্রশাসনের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত আমিন বলেন, এলজিইডি সড়ক থেকে কমপক্ষে ৩ ফিট ছেড়ে দিয়ে জমির মালিক কাজ করতে হবে। ওনারা যেটি করেছে তারা দুষ্টু প্রকৃতির লোক। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।




