
ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও ফরিদগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
পরে বাদ আসর জানাজা ও দাফন শেষে আবারও তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন মাহফুজুল হকের মা বদরুন্নেছা (৬০)।
পরে পরিবারের লোকজন প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে মায়ের জানাজা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তি দেয়। পুলিশ তাকে গাড়িতে করে গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কাছিয়াড়া জমাদার বাড়ির মাঠে জানাজা ও দাফনের জন্যে নিয়ে আসে। জানাজায় অংশ নিতে প্রবাস থেকে মরহুমার আরো দুপুত্র দেশে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের কয়েকজন জানান, জানাজায় অংশ নেয়ার জন্যে ফরিদগঞ্জে এসে প্রথমে তিনি তুলাতলি মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় সাবেক মেয়র মাহফুজুল হকের এক হাতে হাতকড়া ছিল। এ সময় তাকে ঘিরে রেখেছিলো পুলিশ। জানাজায় সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেনসহ দলমত নির্বিশেষে কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। জানাজাপূর্ব বক্তব্যে সাবেক মেয়র মাহফুজুল হক তার প্রয়াত মায়ের জন্যে দোয়া চান। তিনি তার ছেলেকে ঢাকায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে আটক হন। তার বাবা অসুস্থ। তার বাবার জন্যেও তিনি দোয়া কামনা করেন।
এ সময় তিনি তার মেয়র থাকাকালীন দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্যে কাজ করেছেন বলে আজ মায়ের জানাজায় দলমত নির্বিশেষে অনেকে উপস্থিত হয়েছেন বলে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। মৃত্যুকালে মা বদরুন্নেছা ৪ পুত্র, ৩ কন্যা ও স্বামীসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে যান।
মরহুমার জানাজার নামাজে ইমামতি করেছেন তাঁর স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শহিদ উল্যাহ। পুলিশ সূত্র জানায়, মাহফুজুল হক ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কাছিয়াড়া গ্রামের মাওলানা শহিদ উল্যা পাটওয়ারীর ছেলে। তিনি গত ২০১৭ সালে পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।
বিগত বছরের ৮ অক্টোবর ২০২৫ বুধবার রাতে ঢাকার ডেমরা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে। আটকের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদগঞ্জ থানার ওসি হেলাল উদ্দিন।




