
সাইফুল ইসলাম সিফাত : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে একসাথে তিন সন্তানের জন্ম দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তরুণী মা মিলি আক্তার (২০)।
অভাব-অনটনের ভেতরেও সন্তানদের লালন-পালনে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন বাবা রিয়াদ হোসেন, যিনি পেশায় সিএনজি চালক। এ সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নাজিয়া হোসেন।
গত শুক্রবার পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচকড়ি মিয়াজী বাড়িতে নবজাতকদের জন্য দুধ, মা-বাবার জন্য মিষ্টি ও ফুল নিয়ে যান ইউএনও। একই সঙ্গে তিনি জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই তিন নবজাতকের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করে জন্মসনদ তুলে দেন বাবা-মায়ের হাতে। জন্মনিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত শিশুরা হলেন কন্যা: তাইয়্যেবা ইসলাম, কন্যা: মারওয়া ইসলাম ও পুত্র: মো. ইব্রাহিম।
ইউএনও নাজিয়া হোসেন বলেন, “এ তিন নবজাতক শুধু একটি পরিবারের সম্পদ নয়, আমাদের সমাজেরও সম্পদ। আমরা চাই তারা সুস্থভাবে বড় হোক। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র শুভেচ্ছা নয়, বাস্তব সহায়তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
পরিবার জানায়, গত ২০ জুলাই প্রসববেদনা উঠলে মিলি আক্তারকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। পরে হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. নুসরাতের তত্ত্বাবধানে জন্ম হয় আরও দুই সন্তানের। বর্তমানে তিন নবজাতকই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সুস্থ রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত মায়ের দুধ না পাওয়ায় দুধ ও ওষুধ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।
বাবা রিয়াদ হোসেন বলেন, “ইউএনও মহোদয় এসে দুধ, মিষ্টি, ফুল ও বাচ্চাদের জন্মসনদ দিয়েছেন। এমন মানবিক প্রশাসক আগে দেখিনি। আল্লাহ তাঁর মঙ্গল করুন।”
মা মিলি আক্তার বলেন, “আল্লাহ আমাকে তিন মানিক দিয়েছেন। কিন্তু মায়ের দুধ পর্যাপ্ত নয়। ইউএনও মেডাম দুধ ও ওষুধ কিনে দিয়েছেন, আমরা কৃতজ্ঞ।”
দাদি রওশন আরা বলেন, “ছেলে সিএনজি চালিয়ে যে টাকা আয় করে, তাতে দুধই জোটে না। সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু সাহায্য করেন, আমরা বাচ্চাদের সুস্থ রাখতে পারব।”
শাহরাস্তি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকলিমা জাহান বলেন, “এই মা স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিন সন্তানের জন্ম দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নরমাল ডেলিভারি মা ও নবজাতক উভয়ের জন্যই কল্যাণকর।”




