চাঁদপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে করণীয় শীর্ষক সভা

স্টাফ রির্পোটার : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠান উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে করনীয় শীর্ষক সভা গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভার সভাপতি চাঁদপুর পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম, তিনি তাঁর বক্তব্যে চাঁদপুর সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সমাজের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী দূস্কৃতিকারী যে হউক তাদের ধরামাত্র আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যতই ক্ষমতাধর প্রভাবশালী হউক সুপারিশ চলবে না। শুধু তাই নয়, তালিকা অনুসারে মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারিদের, রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্তকারী, সাধারণ মানুষের মাঝে দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী এবং কাগজপত্র বিহীন, হেলমেট বিহীন বেপরোয়া মোটরসাইকেল আরোহী সহ মোটরযান ধরা মাত্র আইনের আওতায় এনে মামলা দিয়ে দিবেন।

তিনি আরো বলেন, অতীতের ন্যায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপগুলোতে আপনাদের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি এখন থেকে যেখানে প্রতিমা তৈরি হয় বা আনা হয় সেখানে পুলিশ সদস্যরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। সেখানে আনসার ভিডিপির সদস্যদের সাথে পুজা কমিটির স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা সবসময় মোতায়েন করতে হবে।

এ সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নেতৃবৃন্দের সাথে করনীয় শীর্ষক সভায় সভাপতিত্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, আপনারা আপনাদের শান্তি পূর্ণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শারদীয় দুর্গাপূজা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উৎসব অনুষ্ঠান পালন করবেন। আর ধর্মীয় গান বাজিয়ে পরিবার নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দ উপভোগ করবেন।

সামনে নির্বাচন তাই বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যাবে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, অনেকে আবার রাজনীতি ফায়দা লুটতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সমস্যাগুলো ধৈর্য সহকারে সমাধান করতে হবে। ঘটনা সতত্যা রেখে, বড়ো আকার না ছোটো করো সমাধান করে ফেলবেন। কোনো কিছু লুকানো যাবে না। তিনি আরো বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জ্জন মাগরিব পরপরই করবেন। মাগরিবের আগেই রেডি হয়ে নেমে আসবেন।

এ সময় উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট বিনয় ভূষণ মজুমদার, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরেশ মালাকার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী।

চাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন চন্দ্র সাহা, চাঁদপুর সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, চাঁদপুর পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নেপাল চন্দ্র সাহা,

হাইমচর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিবেক লাল মজুমদার, মতলব উত্তর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস, মতলব দক্ষিণ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কিশোর কুমার ঘোষ,

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রাণকৃষ্ণ মনা, হাজীগঞ্জ পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাধাকান্ত সাহা রাজু, শাহরাস্তি উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিখিল বন্ধু মজুমদার, কচুয়া উপজেলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র সাহা প্রমূখ।

সম্পর্কিত খবর