চাঁদপুরে অ্যাম্বুলেন্সে নারীকে ‘ধর্ষণ’ : চালক গ্রেপ্তার

মহসীন হোসাইন : চাঁদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে অ্যাম্বুলেন্সে ধর্ষণের অভিযোগে চালককে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নিজ গাছতলা স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. মুরাদ হোসেন (৩৭)। তিনি চাঁদপুর শহরের প্রফেসর পাড়ার বাসিন্দা। তিনি ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স চালান।

ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর ভগ্নিপতি বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মুরাদ হোসেনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নে ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তখন ওই সড়কে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইবাদুল হক ও সঙ্গীয় ফোর্স টহল দিচ্ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশে থামানো অবস্থায় দেখে সন্দেহে হলে তল্লাশি চালিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয় এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ চালককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালক মুরাদ হোসেন ঢাকা থেকে রোগী নিয়ে পাশের লক্ষ্মীপুর জেলায় যান। সেখান থেকে চাঁদপুরে আসার পথে লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ডে ঘোরাঘুরি করা অবস্থায় কয়েকজনের সহযোগিতায় ওই নারীকে যাত্রীবেশে তাঁর অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে আসেন।

পরে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে তাঁকে ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী নারীর ভগ্নিপতি বলেন, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে। মা-বাবার সঙ্গে বাড়িতে থাকেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় স্বজনদের অজান্তে মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ওই নারী ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়ির সবার অজান্তে বের হয়ে যান। এরপর বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে চাঁদপুর সদর মডেল থানা-পুলিশের মাধ্যমে ধর্ষণের খবর পান।

ওসি মো. বাহার মিয়া বলেন, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। প্রায় সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ডে ঘোরাঘুরির সময় অ্যাম্বুলেন্সচালক তাঁকে তুলে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর