সৌদি আরবে নেওয়ার নামে প্রতারনা : চাঁদপুর সদর থানায় অভিযোগ

চাঁদপুর খবর রির্পোট: সৌদি আরবে নেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ করায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ভাটেরগাঁও গ্রামের শামসল হক খানের ছেলে মোঃ শাহআলম খান বাদী হয়ে মো: রাকিব গাজীকে প্রধান আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গতকাল ২৯আগস্ট চাঁদপুর সদর থানায় অভিযোগ করেন তিনি। এতে আসামী করা হয়, প্রতারক ১। মোঃ রাকিব হোসেন (২৬), পিতা ৪ মোঃ মিজান গাজী, ২। নাজমা বেগম (৪০), স্বামীঃ মোঃ মিজান গাজী, সর্ব সাং- গাজী বাড়ি, শিলনদী, পো: বাবুরহাট, থানা : চাঁদপুর সদর, জেলা: চাঁদপুর। ৩। মোশাররফ (৪০), সাং: কচুয়া, পো: কচুয়া, থানা: চাঁদপুর সদর, জেলা: চাঁদপুর, হাল সাং: সৌদী প্রবাসী।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ১নং বিবাদী মোঃ রাকিব হোসেন ও আমার ছোট ভাই রায়হান ইসলাম শুভ (২৬) ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়া করে এবং তারা দুজনেই একে অপরের বন্ধু ছিল। লেখাপড়া শেষে ১নং বিবাদী মোঃ রাকিব হোসেন সৌদি আরব চলে যায় এবং আমার ভাই একটি মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে চাকরি শুরু করে। ১নং বিবাদী বিদেশ যাওয়ার পর হতে তাহার সাথে বাদীর ছোট ভাইয়ের মোবাইল ফোনে ইমুতে কথোপকোতন হতো। কথোপকোতনের এক পর্যায়ে ১নং বিবাদী মোঃ রাকিব হোসেন আমার ভাইকে বলে সৌদি আরবের একটি মসজিদের ইমামের ভিসা আছে।

বেতন সৌদি ১৫০০ রিয়েল হবে, থাকা-খাওয়া মালিকের। ভিসা খরচ ৪,৭০,০০০/- (চার লাখ সত্তর হাজার) টাকা। ইমামের ভিসা এবং সকল সুযোগ সুবিধা ভালো দেখে আমার আমার ছোট ভাই রায়হান ইসলাম শুভ সৌদি আরব যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং ১নং বিবাদীকে আমার ছোট ভাই ইমুতে তার পাসপোর্টের ছবি তুলে পাঠিয়ে দিলে ১নং বিবাদী ভিসা বাবদ অগ্রিম ১,৫০,০০০টাকা ২নং বিবাদী নাজমা বেগমের কাছে দিতে বললে আমার ছোট ভাই ও ২নং, ৩নং স্বাক্ষীসহ ঘটনাস্থল ২নং বিবাদীর বসতবাড়িতে গিয়ে গত ০৫/০৯/২০২৪ইং তারিখ ১,৫০,০০০টাকা দিয়ে আসে।

যাহার ভিডিও রেকর্ড মোবাইলে রক্ষিত আছে। বাকি ৩,২০,০০০টাকা (তিন লাখ বিশ হাজার টাকা) ১নং বিবাদীর কথামতো তার দেয়া বিকাশ নাম্বারে বিভিন্ন সময়ে পাঠাইয়া দেই। টাকা পাওয়ার পর ১নং বিবাদী আমার ভাইকে বলে এক মাসের মধ্যে ভিসা চলে আসবে তুমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বিদেশ আসার জন্য তৈরি হও।

তার কথা মতো আমার ছোট ভাই চাকরি ছেড়ে দিলেও ভিসা হবে হবে বলে দীর্ঘ ছয় মাস ঘুরাতে থাকে। পরবর্তীতে গত ২১/০৫/২০২৫ইং তারিখে আমার ছোট ভাই সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় এবং সৌদি বিমানবন্দরে পৌছানোর পর ১নং বিবাদী নিজে এসে তাকে নিয়ে যাবার কথা থাকলেও প্রায় ৭ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর ৩নং বিবাদী (দালাল) মোশাররফ এসে আমার ভাইকে সৌদি বিমানবন্দর থেকে নিয়ে গিয়ে এক সপ্তাহ তার জিম্মায় রাখার পর বের করে দেয়।

পরবর্তীতে আমার সৌদি আরবের রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় খেয়ে না খেয়ে লুকিয়ে থাকে এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা বিভিন্ন ভাবে দেশ থেকে আরো প্রায় ১,৫০,০০০টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু অদ্যাবধি আমার ভাই কোন কাজ পায় নাই।

বিষয়টি নিয়ে ১নং বিবাদীর সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে ২নং বিবাদীর (১নং বিবাদীর মা) এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমার ছেলের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নাই। সে কোথায় আছি আমি কিছু জানি না।

২নং বিবাদীর কথা শুনে আমরা বিভিন্নভাবে ১নং বিবাদীর তথ্য নেয়ার চেষ্টা করলে জানতে পারি বিবাদী বর্তমানে বাড়িতেই আছে। এবং সে অন্য রাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য পায়তারা করছে।

সম্পর্কিত খবর