ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও শাহমাহমুদপুরে ইউসুফ হত্যা মামলার চার্জশিট জমা হয়নি

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট: জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে হকার্স মার্কেটের মোবাইল হাউজের স্বত্বাধিকারী সদর উপজেলার ৪ নং শাহমামুদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারডুগিতে ইউসুফ পাটওয়ারী (৪০) নামের দুই সন্তানের জনককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়নি।

এনিয়ে মামলার তদন্তকারী কমকতা এসআই রফিকের তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে । তার তদন্ত ধীর গতি বলে অভিযোগ উঠেছে ।

গতকাল ১৩আগস্ট এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা বলেন, অতি দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) যেন জমা দেওয়া হয়। নিহত ইউসুফ পাটওয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নং শাহমামুদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারডুগি মিয়ারবাজার পাটোয়ারী বাড়ির মৃত কলিমুল্লাহ পাটোয়ারীর ছেলে।

তার দু’জন ছেলে সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় গত ১৭/০২/২০২৫খ্রিঃ ইউসুফ পাটওয়ারীর স্ত্রী মিস হালিমা আক্তার (৩১) বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার নং ৫৩ জিআর নং ১৪২/২৫ ধারা: ৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩০২/৫০৪/২)/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ রুজু করা হয়।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পুলিশ সুপার কে জানালে, তিনি বলেন মামলার চার্জশিট দেওয়ার জন্য চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি নির্দেশনা দিয়েছি। এ ব্যাপারে মামলার এসআই তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিক দৈনিক চাঁদপুর খবরকে জানান, মামলাটি তদন্ত চলছে। আশা করছি দ্রুত সম্ভব মামলাটির চার্জসীট আদালতে দাখিল করা হবে।

এই ঘটনায় আহত শাহতলী স্টেশন দরগা জামে মসজিদ এর ইমাম মাওলানা ইব্রাহিম পাটোয়ারী (৫৫) জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা হাসপাতালে ছিলাম। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়নি। আমরা অতি দ্রুত মামলার অগ্রগতি চাই।

চার্জসীট দেওয়ার দাবী করছি। মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর নাম: মিস হালিমা আক্তার (৩১), পিতা-খালেক শেখ, মাতা-রোকেয়া বেগম, স্বামী-মৃত মোঃ ইউসুফ, সাং-পশ্চিম কুমারডুগী (পাটওয়ারী বাড়ী), ২নং ওয়ার্ড, শাহতলী, ৪নং শাহ মোহাম্মদপুর ইউপি, থানা ও জেলা-চাঁদপুর। আসামীদের নাম: ১। মোঃ রমজান হোসেন প্রধানিয়া (২৩), পিতা-মোঃ মাইন উদ্দিন প্রধানিয়া, মাতা-হাজেরা বেগম প্রকাশ খাদিজা, ২। হাজেরা বেগম প্রকাশ খাজিদা (৪১), স্বামী-মোঃ মাইন উদ্দিন প্রধানিয়া, ৩। মোঃ মাইন উদ্দিন প্রধানিয়া (৫৬), পিতা-মৃত ফজলুল হক প্রধানিয়া, মাতা-মোসাঃ ফিরোজা বেগম, সর্ব সাং-পশ্চিম কুমারডুগী, ২নং ওয়ার্ড, শাহতলী, ৪নং শাহ মোহাম্মদপুর ইউপি, থানা ও জেলা-চাঁদপুর সহ আরো অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন। ঘটনাস্থল: চাঁদপুর সদর মডেল থানাধীন ৪নং শাহ মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারডুগী ২নং ওয়ার্ড শাহতলী সাকিনস্থ বাদীর বসত ঘর সংলগ্ন পুকুর ঘাট ও আসামীদের বসত ঘরের ভিতর। ঘটনার তারিখ ও সময়: ১৬/০২/২০২৫ তারিখ সকাল অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময়। এজহার বিবরণীতে উল্লেখ্য করা হয়, আমি একজন গৃহিনী।

ভিকটিম মোঃ ইউসুফ (৪৩) আমার স্বামী হয়। অপরাপর ভিকটিম আমার ভাসুর, ননদ, শ্বাশুরী ও ভাসুরের স্ত্রী। আসামীরা আমাদের পাশের প্রতিবেশী। আমাদের বসত বাড়ীর পাশে বাঁশ ঝাড়ের বাঁশ কাটা এবং জমি জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আসামীদের সহিত আমার শ্বশুর বাড়ীর লোকজনদের পূর্ব হইতে বিরোধ চলে আসছিলো।

উক্ত বিরোধের কারনে আসামীরা আমাদের একাধিকবার ঝগড়া বিবাদ করেছে। এতে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষতি করার সুযোগ সন্ধানে থাকে। ঘটনার দিন ১৬/০২/২০২৫ তারিখ সকাল অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় আমার ভাসুর ২নং সাক্ষী মোঃ ইব্রাহিম পানি আনার জন্য উল্লেখিত ঘটনাস্থলের পুকুর ঘাটে গেলে ৩নং আসামী মোঃ মাইন উদ্দিন প্রধানিয়া আমার ভাসুরকে সেখানে দেখতে পাইয়া পূর্বের বিরোধীয় বিষয় নিয়া ১ ও ২নং আসামীসহ আরো অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন আসামীরা ঘটনাস্থলে আসিয়া আমার ভাসুর ভিকটিম মোঃ ইব্রাহিমকে টেনে হেচড়ে আসামীদের বসত ঘরের ভিতরে নিয়ে দেশীয় ধারালো দা, ছুরি ও লাঠিসোটা ইত্যাদি নিয়া পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাসুরের উপর অতর্কিত আক্রমন করে।

৩নং আসামী মোঃ মাইন উদ্দিন প্রধানিয়া তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়া আমার ভাসুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে মাথায় কোপ মারিলে উক্ত কোপ আমার ভাসুর ভিকটিম মোঃ ইব্রাহিম এর পেটে পড়ে গুরুতর আহত হয়। আমার ভাসুরের চিৎকার শুনে আমার স্বামী ভিকটিম মোঃ ইউসুফ (৪৩) এগিয়ে গেলে ১নং আসামী মোঃ রমজান হোসেন প্রধানিয়া তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়া আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে ঘাঁই মারিলে উক্ত ঘাঁই আমার স্বামীর গলার বাম পাশে পড়ে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়।

সেখান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হইলে আমার স্বামী মাটিতে লুটিয়া পরলে ১নং আসামী মোঃ রমজান হোসেন প্রধানিয়া ও ২নং আসামী হাজেরা বেগম প্রকাশ খাজিদা (৪১) তাদরে হাতে থাকা ধারালো ছুরি ও দা দিয়া আমার স্বামীকে উপর্যুপরী কোপাইয়া আমার স্বামীর মাথায়, হাতের বাহু সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। আমার স্বামীকে বাঁচাতে আমি সহ ৩নং সাক্ষী আমেনা বেগম এগিয়ে গেলে সকল আসামীরা আমাদেরকেও কিল, ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে।

আমাদের ডাক চিৎকারে বাড়ীর আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা বিভিন্ন হুমকী ধমকী দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় আমার স্বামী ভিকটিম মোঃ ইউসুফ ও আমার ভাসুর ভিকটিম মোঃ ইব্রাহিমকে গুরুতর আহত অবস্থায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডিউটি ডাক্তার আমার স্বামী ভিকটিম মোঃ ইউসুফকে মৃত বলিয়া ঘোষণা করেন।

আমার ভাসুর ভিকটিম মোঃ ইব্রাহিম এর শরীরের আঘাতের অবস্থা গুরুতর আশংকাজনক হওয়ায় ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আমার ভাসুর বর্তমানে মুমুর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ চাঁদপুর সদর হাসপাতালে আসিলে আমার স্বামী ভিকটিম মোঃ ইউসুফ এর মৃত দেহের সুরতহাল প্রস্তুত করিয়া ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করেন। আমার স্বামীর মৃতদেহের লাশের দাফন কাফন শেষে পরিবারের লোকজনদের সহিত আলোচনা করিয়া থানায় আসিয়া এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব হইল। প্রসঙ্গত, গত (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫খ্রি.) রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নং শাহমামুদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারডুগি মিয়ারবাজার পাটোয়ারী বাড়িতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ইউসুফ পাটওয়ারী (৪০) নামের দুই সন্তানের জনককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এই ঘটনায় অপর বড় ইব্রাহিম পাটোয়ারী (৫৫) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছিলো। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আমিনুল ইসলাম সুমন জানিয়েছেন, আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তার মাথা, কপাল, ঘাড় সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তবে ডান পাশের ঘাড়ে যে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। সেটিতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারনেই তার মৃত্যুর কারন বলে তিনি ধারণা করছেন। পাশা পাশি আহত ইব্রাহিম মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ছুরি-ঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। যার কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেছি। এদিকে ঘটনার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত মাইনুদ্দীন, তার স্ত্রী হাজেরা বেগম ও ছেলে রমজানকে আটক করেন চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ।

ঘটনার পর চাঁদপুর মডেল থানার এস আই নাজমুল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরুতহাল তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ থানায় নিয়ে যান। চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বাহার মিয়া জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা তিনজনকে থানায় নিয়ে এসেছি। বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর