ফরিদগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধে এক ভাইয়ের সীমানা প্রাচীর ভাঙল অপর ভাই

এস. এম ইকবাল, ফরিদগঞ্জ : দীর্ঘ ৪৪ বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে মুহূর্তের জন্যও শান্তি পাননি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কালু মিজি (৬৫)। পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে বিল্ডিং এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেন আপন বড় ভাই রশিদ মিজি।

প্রথম দফায় হামলার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও ফের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চররামপুর মিজি বাড়িতে। কালু মিজি জানান, “আমার কোনো ছেলে নেই। তাই তিন মেয়ের নামে সম্পত্তি লিখে দিয়েছি। এরপর থেকেই ভাইয়েরা নানা অজুহাতে আমাকে হয়রানি শুরু করে।

শান্তিতে থাকতে দেয় না।” তিনি আরও বলেন, “আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ছোট মেয়ে বাড়িতে থাকত। চলতি বছরের ৩০ জুলাই ভাইয়েরা আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আমার ছোট মেয়ে ফারজানা বেগম থানায় ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে অভিযোগ দেয়। কিন্তু ১২ আগস্ট ফের সন্ত্রাসীরা বাড়ির দুই দিক দিয়ে এসে সদ্য নির্মিত সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেয়।”

কালু মিজির বড় মেয়ে রুজিনা আক্তার বলেন, “৩০ জুলাইয়ের হামলার পর পুলিশ মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে ডাকলেও তারা আসেনি। এবার দেয়াল বানানোর পরই ভেঙে দিল।” পাশের বাড়ির বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম জানান, “সারাদিন মিস্ত্রিরা দেয়াল তুলেছেন, কিন্তু সন্ধ্যার আগে একদল লোক এসে তা ভেঙে দেয়।” নির্মাণশ্রমিক আলমগীর শেখ বলেন, “এমনকি বিল্ডিং করার সময়ও তারা কলামের রড খুলে ফেলেছিল।

এবারও আমরা কাজ শেষ করে বাজারে যেতেই দেয়াল ভেঙে ফেলে।” অভিযুক্ত রশিদ মিজির বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের নারীরা তাঁর ফোন নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অপর অভিযুক্ত আরিফ মিজির নাম্বার নাম্বার দিলেও তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।

ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই জুমায়েত হোসেন জুয়েল বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্পর্কিত খবর