চাঁদপুরে শ্রদ্ধা, সংহতি ও উৎসবে মুখরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

মহসিন হোসাইন : গণজাগরণ, স্মরণ ও সম্মাননার অনন্য সম্মিলনে চাঁদপুরে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৫।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যৌথ আয়োজনে দিবসটি স্মরণীয় করে তুলতে শহরজুড়ে দিনভর ছিল নানা কর্মসূচি। শহীদদের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, সংবর্ধনা, ম্যারাথন দৌড়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিজয় র‌্যালি।

গত মঙ্গলবার (৫ আগস্ট ২০২৫খ্রি.) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় মূল আলোচনা সভা এবং শহীদ পরিবারে ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা অনুষ্ঠান।

জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা-২০২৫ -এর আওতায় আয়োজিত এই সম্মিলনে অংশগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বোপরি সেই সব শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা, যাঁদের ত্যাগেই দিনটি ইতিহাসের অংশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল রাজনৈতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই আন্দোলন বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের পথে সহায়ক হয়ে থাকবে। আমাকে বা আপনাকে কারও কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে না ‘জুলাই চেতনা’ কী। এটি আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত জামিল সৈকতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম, জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, গণফোরামের সভাপতি অ্যাড. মো. সেলিম আকবর, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা, শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের পিতা জসিম মিয়া, জুলাই যোদ্ধা নাজিম হোসেন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক ফয়সাল আহমেদ বাহার গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাজী রাসেল, জেলা ছাত্রদলের ইসমাঈল পাটোয়ারী, ছাত্রশিবিরের জাহিদুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের এই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ। শহীদদের আত্মত্যাগেই আমরা আজ ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার সাহস পেয়েছি। তাঁরা উল্লেখ করেন, চাঁদপুর জেলায় ৩১ জন শহীদ হন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ২০০৯-২০২৪ মেয়াদে বিএনপির প্রাণ হারান ২২ জন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুপ্রিয় রঞ্জন দাস এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। পরে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয় মিলনায়তন। সকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস, বিকালে জামায়াতে ইসলামি এবং পৃথকভাবে উপজেলা ও পৌর পর্যায়ে বিএনপির বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

এই র‌্যালিগুলোতে অংশ নেয় বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ।

সম্পর্কিত খবর