
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর মডেল থানার সফল অভিযানে আত্মগোপনে থাকা হ্যাকার ও প্রতারক আব্দুর রহমান তারেককে রোববার (২৬ জুলাই ২০২৫খ্রি.) আদালতে উঠালে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন।
চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে ক্লাব রোডের আব্দুল কাদের নামের এক বাসিন্দার কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারেক। এজন্য কাদেরকে চেক ও স্ট্যাম্প লিখে দেয় প্রতারক। প্রতারণার শিকার হয়ে অবশেষে থানায় মামলা করেন কাদের।
আটককৃত হ্যাকার ও প্রতারক আব্দুর রহমান তারেকে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের মিজান মিয়াজীর ছেলে। সে ঢাকা গাবতলী শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বসবাস করে সেখান থেকেই চালাতেন প্রতারণার বড়সড় জাল। আত্মগোপনের নাটক সাজিয়ে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লো চাঞ্চল্যকর হ্যাকার ও প্রতারক আব্দুর রহমান তারেক।
গত শুক্রবার (২৫ জুলাই ২০২৫ খ্রি.) চাঁদপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই গাজী কালাম খাগড়াছড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, একজন নিখোঁজ স্বামীর গুমের অভিযোগে নাড়াচাড়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে এলো এক রোমাঞ্চকর প্রতারণার কাহিনি। সে প্রতারণার টাকায় কিনে ফেলে মডেল মসজিদের কাছের একটি ফ্ল্যাট। স্থানীয়রা বলছেন— শ্বশুর বাড়ির পাশেই বাসা নিয়ে হ্যাকার তারেক হ্যাকিং আর অনলাইন জালিয়াতির ফাঁদ পাতত।
জানা গেছে, আইপিএল জুয়ায়ও প্রচুর টাকা খরচ করেছে সে। শুধু তাই নয়, নজরুল ইসলাম মুন্সির ছেলে আলম মুন্সিকে সেনা গ্যাসের ডিলার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় ৩২ লাখ টাকা!। আরও বিস্ময়কর হলো ক্যানাডা পাঠানোর নাম করে মতলব দক্ষিণের ওমর ফারুক, ঢাকার মিজানুর রহমান ও আলী আকবরসহ অনেকের কাছ থেকে ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রায় কোটি টাকা তুলে নেয় এই প্রতারক।
ভুক্তভোগীরা চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। আলম মুন্সির ভাই আবুল মুন্সী আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর ঘটল নাটকীয় মোড় নেয় অন্যদিকে। মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যায় তারেক। এদিকে তার স্ত্রী এসে জানালেন তার স্বামী নিখোঁজ! চাঁদপুর মডেল থানায় জমা পড়ে একটি সাধারণ ডায়েরি। তবে নাটক বেশিদিন চলল না।
চাঁদপুর মডেল থানার এসআই গাজী কালাম পুলিশ সুপারের নির্দেশে খাগড়াছড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন। স্থানীয়রা জানান, তারেক শ্বশুরবাড়ি এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে নানা রকম হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা ও মোটা অঙ্কের টাকার কারবার করত। জিজ্ঞাসাবাদে সে টাকাগুলো নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আর এমন কিছু করবে না।




