চাঁদপুরে কিশোর অপরাধে ৭৭ জন আটক, কাউন্সেলিং শেষে ৫ জন মুক্ত

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলা থেকে শুক্রবার (২৫ জুলাই ২০২৫খ্রি.) কিশোর অপরাধে জড়িত সন্দেহে ৭৭ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।

কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্র দমনে একযোগে অভিযান চালায়। চাঁদপুরের আটটি উপজেলায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা এবং সেনাবাহিনী।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেন প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং পুলিশের একাধিক টিম। পুলিশ জানায়, আটককৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অনলাইন জুয়ায় লিপ্ত ছিল এবং একজনকে মাদকসহ পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় ও অপরাধ সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রাপ্ত তথ্য মতে কিশোর অপরাধী সন্দেহে চাঁদপুর মডেল থানা এলাকা থেকে ২৬ জন, হাইমচর থানায় ২ জন, ফরিদগঞ্জ থানায় ০৪ জন, মতলব দক্ষিণ থানায় ১ জন, মতলব উত্তর থানায় ১১ জন, হাজিগঞ্জ থানায় ১০ জন,
শাহরাস্তি থানায় অভিযান চলমান, কচুয়া থানায় ১৪ জন, ডিবি পুলিশের অভিযানে ৯ জনসহ মোট -৭৭ জনকে আটক করা হয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে : চাঁদপুর সদর মডেল থানার অভিযানে এবং চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)-এর দিক নির্দেশনায় শুক্রবার (২৫ জুলাই ২০২৫) চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এবং সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স।

অভিযান পরিচালিত হয় শহরের হাসান আলী মাঠ, মিশন রোড, ছায়াবাণী মোড়, সিএনজি স্ট্যান্ড এবং রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম এলাকায়। অভিযানের সময় কিশোর অপরাধে জড়িত সন্দেহে মোট ২৬ জন কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাদের সিডিএমএস ও পিসিপিআর যাচাই করে অভিভাবকদের জিম্মায় প্রদানপূর্বক কিশোর অপরাধ সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং করা হয়। অপরদিকে সিএনজি স্ট্যান্ডে মোবাইল ফোনে জুয়া খেলতে থাকা অবস্থায় ৫ জনকে আটক করা হয়। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আটককৃত কিশোরদের নাম ও পরিচয় নিম্নরূপ : ১. মোঃ ইয়াছিন (১৮), পিতা-মো. কাদির গাজী, মাতা-রীনা বেগম, সাং-ভূইয়া বাড়ি, রহমপুর কলোনী; ২. আফনান শেখ (১৫), পিতা-শেখ মো. আলমগীর, মাতা-বেবী নাজনীন, সাং-রহমতপুর কলোনী: ৩. শাহিব হোসেন (১৮), পিতা-জাহাংগীর হোসেন, মাতা-শামিন বেগম, সাং-নতুন বাজার, উকিল পাড়া; ৪. মো. ফাইয়াস হোসেন জাহিদ (১৭), পিতা-মো. বিল্লাল হোসেন, মাতা-আয়েশা বেগম, সাং-ট্রাকঘাট, ১৪৭নং রহমতপুর আবাসিক এলাকা: ৫. ফাহাদ মোল্লা (১৮), পিতা-শাহাদাত হোসেন, মাতা-আয়েশা বেগম, সাং-নবাবগঞ্জ, ঢাকা; বর্তমান রহমতপুর কলোনী; ৬. ইমতিয়াস অলিম নিশাত (১৮), পিতা-বুলবুল আহমেদ, মাতা-সালমা বেগম, সাং-আলিমপাড়া; ৭. মো. ফারহান গাজী (১৮), পিতা-মো. মোশারফ হোসেন, মাতা-ফাহিমা বেগম, সাং-নতুন বাজার, উকিল পাড়া; ৮. মো. সোহেল আহমেদ (১৭), পিতা-মো. সেকান্দর, মাতা-শাহিনা খাতুন, সাং-গাজী সড়ক,

৯. মো. জিহাদ মজুমদার (১৮), পিতা-খাদেমুল বাশার মজুমদার, মাতা-তাছলিমা আক্তার, সাং-আলিমপাড়া; ১০. লাবিব খান (১৮), পিতা-মো. জহির হোসেন খান, মাতা-মাহমুদা বেগম, সাং-পালপাড়া, রাশেদ কর্নার ভিলা; ১১. মো. আরব আলী (১৭), পিতা-মো. কাদির মিজি, মাতা-আয়শা বেগম, সাং-মৈশাদী, ০২নং ওয়ার্ড: ১২. শফিনুর হক (১৯), পিতা-ডা. শাহিদুল হক, মাতা-ডা. সালেহা হক, সাং-বাবুরহাট; ১৩. মো. শান্ত মিজি (১৯), পিতা-শাহজাহান মিজি, মাতা-আমেনা বেগম, সাং-হামানকদি; ১৪. হাসিব খান (১৭), পিতা-জসিম খান, মাতা-রাবেয়া বেগম, সাং-মধ্য তরপুরচন্ডী;

১৫. মো. শান্ত হোসেন (১৫), পিতা-মো. আনোয়ার হোসেন, মাতা-শাহিনা বেগম, সাং-তরপুরচন্ডী; ১৬. সজিব হোসেন (১৭), পিতা-সুমন মাঝি, মাতা-মুন্নি বেগম, সাং-তরপুরচন্ডী; ১৭. রবিউল (১৮), পিতা-জাহাঙ্গীর গাজী, মাতা-পারুল বেগম, সাং-মৈশাদী; ১৮. ফাহিম (১৯), পিতা-লিটন, মাতা-হালিমা বেগম, সাং-দাসদী; ১৯. রাফসান রাহিম গাজী (১৫), পিতা-মহসিন গাজী, মাতা-রুবি বেগম, সাং-ওয়ারলেস বাজার, ২০. নাফিজআহমেদ (১৫), পিতা-ফারুক আহমেদ, মাতা-ফারজানা বেগম, সাং-আলিমপাড়া; ২১. মো. মাসুদ ইসলাম (১৮), পিতা-আরশাফুল, মাতা-মনজুআরা, সাং-আমতলী, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা; বর্তমান: মাদ্রাসা রোড, ২২. মোঃ মীম ইসলাম (১৮), পিতা-মো. ফেরদৌস রহমান, মাতা-আছমা বেগম, সাং-আমতলী, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা; বর্তমান মাদ্রাসা রোড; ২৩. মো. রকি মিয়া (১৯), পিতা-নজরুল ইসলাম, মাতা-মোসা. মাহমুদা বেগম, সাং-বড়ইপাড়া,

০৪নং ওয়ার্ড, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা; বর্তমান: মাদ্রাসা রোড; ২৪. মো. গোলাম রাব্বী মিয়া (২০), পিতা-জাহাঙ্গীর মিয়া, মাতা-হাসিনা বেগম, সাং-ছায়াবাণী মোড়, ১০নং পৌর ওয়ার্ড: ২৫. সৌরভ দে (২০), পিতা-মানিক দে, মাতা-কনিকা দে, সাং-পালপাড়া;

২৬. আসিফ বিব মাহবুব (১৮), পিতা-মাহবুব হোসেন দেওয়ান, মাতা-আফরোজা বেগম, সাং-কোড়ালিয়া রোড, ০৮নং ওয়ার্ড, চাঁদপুর। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে যেন এই কিশোররা অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে সে লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কাউন্সেলিং ও অভিভাবকদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ কর্মকাণ্ড রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা।

মতলব দক্ষিণ থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে : মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও এলাকা থেকে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। শনিবার (২৬ জুলাই ২০২৫) সকালে স্থানীয় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসব মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটক মাদক ব্যবসায়ী আওলাদ (৪৪), বোরহান (৪৯) ও রাসেল (২৮)-এর কাছ থেকে ২২ পিস ইয়াবা, ১টি ছুরি, ৩টি গ্যাস লাইট, ১টি গাঁজা সেবনকারী ফিল্টার ও একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। আইনী ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে উদ্ধারকৃত সামগ্রী এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মতলব থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ সালেহ আহমেদ জানান, আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

হাজীগঞ্জ থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে : যৌথবাহিনীর নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ জুলাই ২০২৫) বেলা পৌনে তিনটার দিকে স্থানীয় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ আর্মি ক্যাম্প হতে তালিকাভুক্ত অপরাধী এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা এলাকা থেকে চিহ্নিত কিশোর গ্যাং সদস্য মো. রিফাত আহমেদ (২১), লেমন পাটোয়ারী (২১), মো. জুয়েল হোসেন (২২), মো. আজাদ রানা (২২), মো. আক্তার হোসেন (২০), রাব্বি হোসেন (২০), সোহেল প্রকাশ জুয়েল (২৫) এবং খোরশেদ আলম (১৮)কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

হাজীগঞ্জ থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে : শুক্রবার (২৫ জুলাই ২০২৫) রাত সাড়ে দশটার সময় স্থানীয় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ আর্মি ক্যাম্প হতে একটি মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে শাহরাস্তি উপজেলার পশ্চিম উপলতা এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী মো. দিদারুল আলম তুহিন (৩৮) কে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নিকট হতে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আইনী ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্যে উদ্ধারকৃত সামগ্রী এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে শাহরাস্তি থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা পুলিশ বলছে, কিশোর অপরাধ রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযানে আটক সবাই কিশোর বয়সী। আমরা প্রত্যেকের পারিবারিক, সামাজিক এবং অপরাধ সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’ উল্লেখ্য, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কিশোর অপরাধ ও গ্যাং কালচারের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্পর্কিত খবর