
মহসিন হোসাইন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস স্মরণে চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন—গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রোববার (২০ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সরকারি মহিলা কলেজের সীমানা প্রাচীরে এ আয়োজন হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় জেলার ৮ উপজেলার ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। প্রাচীরজুড়ে তাদের তুলির আঁচড়ে উঠে আসে—‘মুগ্ধের পানি লাগবে পানি’, ‘রক্তাক্ত ৩৬ জুলাই’, শহীদ আবু সাঈদ, গণভবন ঘেরাওসহ ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্যপট।
অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনে যান চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তারা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন এবং ছবিগুলোর প্রতিটি বার্তা গভীর মনোযোগে প্রত্যক্ষ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথযাত্রার এক সাহসী অধ্যায়। সেই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছি। শিক্ষার্থীরা যেভাবে ২৪-এর রঙে স্বাধীনতার গল্প ফুটিয়ে তুলেছে, তা সত্যিই গর্বের।
তিনি আরও বলেন, এই আয়োজন শুধু ইতিহাস জানার আগ্রহই জাগাবে না, বরং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। তরুণদের সৃজনশীলতাই আগামী দিনের বাংলাদেশের চালিকাশক্তি। জেলা প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
চাঁদপুরের দেয়ালে দেয়ালে তাই আজ শুধু আঁকা হয়নি ছবি, ফুটে উঠেছে এক বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস—যা নতুন প্রজন্মকে কেবল স্মরণ করাবে না, গড়ে তুলবে আরও দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক নাগরিক।




