শাহমাহমুদপুরের প্রতারক গাফফার খান ভুয়া সার্টিফিকেটে ব্যাংকে চাকুরি!

চাঁদপুর খবর রির্পোট: শুরুটা একেবারেই সিনেমার মতো—ভিড়ের ভেতর হারিয়ে যাওয়া এক প্রতারক, যার বিরুদ্ধে আদালতের রায়, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে যেন উধাও! সবাই যখন ভাবছিল, বোধহয় পার পেয়ে গেল, ঠিক তখনই… এক এসআই যেন আলোর মত এসে ফাঁদ পেতেই ধরলেন তাঁকে!

সাত বছর ছয় মাস সাজাপ্রাপ্ত মোহাম্মদ গাফফার খান—চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের পাইকদি গ্রামের জালাল উদ্দিন খানের ছেলে। ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঢাকার রুপালি ব্যাংকে ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে চাকুরি নিয়েছিলেন। প্রতারণার সেই মামলাটি হয়েছিল ১৯৯৯ সালে, মতিঝিল থানায়—মামলা নম্বর ছিল ৫(৩)৯৯।

তবে গাফফার পেছনে তাকাননি, বরং পালিয়ে ছিলেন। ঢাকা শহরের ব্যস্ত মিরপুর শাহ আলী মাজার এলাকার গলি-ঘুপচিতে যেন মিশে গিয়েছিলেন ভিড়ের সঙ্গে। কিন্তু দীর্ঘ পলাতক জীবনের অবসান হলো এক নিঃশব্দ রাতে। চাঁদপুর মডেল থানার এসআই আলিম ওঁকে চিহ্নিত করেন, আর পরিকল্পনা মতো চালান অভিযান।

চোখেমুখে ছিল দৃঢ়তা, পায়ের নিচে জমাট বাঁধা ইচ্ছেশক্তি—এসআই আলিম ঠিক করেই রেখেছিলেন, এবার তাঁকে ফিরতেই হবে। অবশেষে, গাফফার ধরা পড়লেন। আর আদালতের দেয়া সাত বছর সাত মাসের সেই সাজা… এখন আর কাগজে নয়, বাস্তবে অনুভব করছেন তিনি।

এই তো গত মাসেই, এসআই আলিম চাঁদপুরে ধরেছেন আরও ১০ জন সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, ভিকটিম উদ্ধারে সাফল্য—সব মিলিয়ে চাঁদপুরে এই এসআই যেন অপরাধীদের জন্য আতঙ্কের নাম।

পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাকিব তাই পুরস্কৃত করেছেন তাঁকে। আর এটা শুধু একটা পদক নয়, এটা সেই পুরস্কার, যা আসে দায়িত্ব থেকে, আসে মন থেকে। কারণ, যখন কেউ ‘ভুলে যাওয়া বিচার’-এর আলোকে টেনে আনে, তখন সে শুধুই আইনরক্ষী নয়—সে হয়ে ওঠে এক নির্ভরতার প্রতীক।

এসআই আলিম জানিয়েছেন, অভিযান চলছেই। যারা ভাবছে পালিয়ে রক্ষা পাবে, তারা যেন জেনে রাখে—আইনের হাত অনেক লম্বা, আর সে হাত একদিন ঠিকই পৌঁছায়!

সম্পর্কিত খবর