
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর শহরের তালতলা জেনারেল (প্রাইভেট) হাসপাতালে গর্ভবতী ফাতেমা বেগমকে সোমবার সকালে ভর্তি করানো হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ডাক্তার উপস্থিত না থাকায় নার্সরাই নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করেন। এ সময় চিকিৎসায় বড় ধরনের ভুলের অভিযোগ উঠে। হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার বলি হলো এক নবজাতক।
সংকটজনক অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে আছেন নবজাতকের মা। ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে।
ফলে নবজাতক শিশুটির করুণ মৃত্যু হয়। আর মা ফাতেমা বেগমের অবস্থা হয়ে ওঠে আশঙ্কাজনক। শুরু হয় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ। পরে দ্রুত তাঁকে ঢাকায় রেফার করা হয়।
ঢাকার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানে ডাক্তাররা জানান, চাঁদপুর হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণেই রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৭ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হলেও ফাতেমা বেগমের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনরা ও স্থানীয় জনতা। অনেকে হাসপাতালে হামলার চেষ্টা করেন। ডাক্তার ও নার্সরা তখন হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতালের এক কর্মকর্তার দাবি শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় জন্ম নেয় এবং পরে মারা যায়। তবে ফাতেমাকে তিন দিন আগেই ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্যদিকে, স্বজনদের অভিযোগ ডাক্তার না থাকা সত্ত্বেও নার্স দিয়ে ডেলিভারি করানো হয়। ভুল চিকিৎসার কারণেই শিশুটি মারা যায় এবং ফাতেমার শরীরের ভেতরকার অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁরা আরও বলেন, এই হাসপাতালে এর আগেও ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে।
তাদের দাবি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কারো পরিবার এমন ভয়ংকর পরিস্থিতির শিকার না হয়।




