
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : আজ শনিবার (১৯ জুলাই) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসমাবেশ। এই সমাবেশে চাঁদপুর জেলা থেকে ২০ হাজারের বেশি নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতারা।
জামায়াতের চাঁদপুর শহর শাখা ও সদর উপজেলা ও জেলা ইউনিট জানিয়েছে, সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন নেতাকর্মীরা।
অনেকেই আবার আজ শনিবার ভোরে যাত্রা শুরু করবেন। জামায়াত নেতারা জানান, চাঁদপুর থেকে নেতাকর্মীদের সমাবেশে নিয়ে যেতে কমপক্ষে ২৫০টি বাস ও ৪টি লঞ্চ ভাড়া করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে বাসগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। যেসব কর্মী বাসে জায়গা না পাবেন, তারা মাইক্রোবাসে যাবেন। অনেকে যাবেন প্রাইভেটকারে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে শহরের বাবুরহাটের এক যাত্রী বলেন, শনিবার ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর বিশাল সম্মেলন হবে বলে জানতে পেরেছি। এজন্য নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচুর বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
চাঁদপুর শহর জামায়াত ইসলামীর আমির বলেন, সমাবেশে যোগ দিতে চাঁদপুর থেকে আমাদের অনেক নেতাকর্মী ইতোমধ্যে ঢাকায় চলে গেছেন। তাদের অনেকে আত্মীয়স্বজনদের বাসায় থাকছেন। সমাবেশের দিন সকালে চাঁদপুর থেকে কমপক্ষে ২৫০টি বাস নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এরচেয়ে বেশি বাস চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, শনিবার (১৯ জুলাই) ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতাদের দাবি, স্বাধীনতার পর বিগত ৫৪ বছরে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার হারিয়েছে দলের নেতারা। ২০২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারছেন। এখন জাতীয় সমাবেশ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছেন। এটি হবে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জমায়েত। সমাবেশে অংশ নেবেন ১০ লাখের বেশি নেতাকর্মী। সমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে ট্রেন ও লঞ্চ বাদ দিয়ে সারাদেশে ভাড়া করা হয়েছে ১০ হাজারের মতো বাস। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবে।
৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দাবিগুলো হলো- অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সকল গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং এক কোটিরও বেশি প্রবাসীদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থার করা।




