চাঁবিপ্রবির শিক্ষক বাইজীদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে ফেইক আইডি থেকে অপপ্রচার

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অর্থ এবং হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. বাইজীদ আহম্মেদ রনিকে ঘিরে একের পর এক ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকেই বাইজীদ আহম্মেদকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একাধিক তথ্য মতে, বাইজীদ আহম্মেদ একজন শিক্ষার্থীবান্ধব ও সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট টিম হিসেবে চাঁদপুর জেলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক উন্নয়নেও তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।

সম্প্রতি তাকে সিন্ডিকেট সদস্য না করার উদ্দেশ্যে অন্য বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীদের দিয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভিযোগের প্রতিবাদ জানায় এবং অভিযোগগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বাইজীদ আহম্মেদ সম্পর্কে ভালো-মন্দ জানার অধিকার মূলত তার বিভাগের শিক্ষার্থীদেরই রয়েছে। অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাকে ঠিকভাবে না চিনেই কেবল দুইজন শিক্ষকের প্ররোচনায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিসিয়াল মিটিংয়ে আমন্ত্রিত না হয়েও হাজির হয়ে আইসিটি বিভাগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রভাষক নাজিম উদ্দিন প্রকাশ্যে বাইজীদ আহম্মেদকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং উপাচার্যকে লিখিতভাবে অবহিত করেন।

ঘটনাক্রমে বাইজীদ আহম্মেদকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপমান ও অপদস্থ করার জন্য একটি ফেইক আইডি খুলে এডিটেড ছবি ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়। তাকে মিথ্যাভাবে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত বলে ট্যাগ দেওয়া হয়। বাইজীদ আহম্মেদ চাঁদপুর সদর থানায় বিষয়টি নিয়েও জিডি করেন। জিডি দায়েরের পরপরই ফেইক আইডিটি থেকে সব পোস্ট মুছে ফেলা হয়।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বারবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. পেয়ার আহম্মেদকে লিখিত ও মৌখিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তারা বলেন, বাইজীদ আহম্মেদ তাদের জন্য সবসময় নিবেদিত এবং তার নামে অন্য বিভাগের ছাত্রদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি ফেরদৌস রহমান জানান, বাইজীদ আহম্মেদ রনি তার ছাত্রজীবনে কখনোই ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন না বরং তিনি সবসময় অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং তার সততা ও সাহসিকতার জন্য বিভাগের পক্ষ থেকে গর্ববোধ করা হয়।

এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষক মো. বাইজীদ আহম্মেদ বলেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমাকে বিতর্কিত করতে এবং সিন্ডিকেটে না রাখতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অন্য বিভাগের কিছু শিক্ষক তাদের ছাত্রদের ব্যবহার করে অভিযোগ করাচ্ছে, অথচ আমার বিভাগের শিক্ষার্থীরা বরাবরই আমার পাশে থেকেছে। আমার বিরুদ্ধে ফেইক আইডি খুলে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, জিডি করার পর সেই আইডি ডিলেট করে ফেলা হয়, যা প্রমাণ করে এটি পূর্বপরিকল্পিত। আমি এ সকল ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, আমি কখনোই জোর করে সিন্ডিকেটে যেতে চাই না। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শতভাগ শিক্ষার্থী চাইলে আমি সেখানে যাবো। তবে অন্য বিভাগের কেউ যদি ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ দেয়, সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

চাঁবিপ্রবিতে মো. বাইজীদ আহম্মেদকে ঘিরে চলমান বিতর্ক ও ষড়যন্ত্রমূলক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু প্রশাসন ও একাডেমিক পরিবেশ রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।

সম্পর্কিত খবর