
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চাঁবিপ্রবি) আবারও আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। এবারের বিতর্কের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন দুই ‘অব্যাহতিপ্রাপ্ত’ শিক্ষক ও এক অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।
শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ, আন্দোলনের হুমকি, সাংবাদিক হেনস্তা এবং অডিট আপত্তিসহ সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের প্রাক্তন প্রভাষক নাজিম উদ্দিন এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের প্রাক্তন প্রভাষক প্রিন্স মাহমুদকে শিক্ষানবিশকাল শেষ হওয়ার আগেই ২০২০ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(৪) ও ৪৩(৫) ধারা অনুযায়ী অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে অব্যাহতির পরও তাদেরকে বেতন দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৪৬ টাকা আর্থিক ক্ষতি করেছে বলে অডিট আপত্তি তোলে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর। অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাকরির শর্ত অনুযায়ী, শিক্ষানবিশকালীন সন্তোষজনক পারফরম্যান্স না থাকলে কোনো কারণ ছাড়াই অব্যাহতি দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম মেনে অব্যাহতি দেওয়া হলেও পরে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের প্রমাণ মেলে।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক নাজিম ও প্রিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও চাকরি ফিরে পেতে সক্রিয়ভাবে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট সভা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন এবং আন্দোলনের হুমকিও দিচ্ছেন। তাদের উদ্যোগেই একটি অফিস আদেশ জারি করে সাময়িকভাবে যোগদানের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এখন সেই আদেশ বৈধ করতে আজ ১৯ জুলাই সিন্ডিকেট সভায় তা উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
চাঁবিপ্রবির একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নাজিম ও প্রিন্স শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার বাইরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন। তাদের বিরুদ্ধ অবস্থান নিলেই আন্দোলনে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদেরও হেনস্তা করা হচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী তথ্য সংগ্রহে গেলে তাকে শিক্ষার্থীদের দিয়ে হেনস্তার ঘটনা ঘটানো হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইউজিসি’র বাজেট পরিপত্র অনুযায়ী পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো অ্যাডহক নিয়োগ বৈধ নয়। তবুও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের চাঁদপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বাবুকে সিনিয়র ক্যাটালগার পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়, এ নিয়ে ইতোমধ্যেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
মাহাবুবুর রহমান দাবি করেন, আমি ছাত্রলীগ কিংবা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে প্রমাণ দেখানো হলে তিনি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
চাঁবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. পেয়ার আহমেদ স্বীকার করেছেন, নানাভাবে শিক্ষার্থীদের দিয়ে আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। সিন্ডিকেট সদস্য নিয়োগ না দেওয়ার জন্যও চাপ এসেছিল। তবে আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করার চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, নাজিম ও প্রিন্সকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সিন্ডিকেটে উত্থাপন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইউজিসির প্রতিনিধি হিসেবে তদন্ত করেন সদস্য অধ্যাপক মো. তানজীমউদ্দিন খান এবং উপসচিব (লিগ্যাল) নূরনাহার বেগম শিউলী। তবে প্রায় সাত মাস আগে করা এই তদন্তে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন নূরনাহার।
তিনি জানান, আমরা কোনো সুপারিশ করিনি। কী লেখা হয়েছিল, এখন তা আমার মনে নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এ ধরনের বিতর্কিত নিয়োগ, প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক চাপ একাডেমিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে অবিলম্বে নিয়মের কঠোর প্রয়োগ ও স্বচ্ছতা না আনলে চাঁবিপ্রবি আরও গভীর সংকটে পড়বে।




