চাঁদপুরে খতিবের উপর হামলাকারীর বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

মহসিন হোসাইন : চাঁদপুর শহরের প্রফেসরপাড়া মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা খতিব মাওলানা আ.ন.ম নূরুর রহমান মাদানীর ওপর হামলাকারী বিল্লাল হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন আবেদন করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৩ জুলাই ২০২৫) সদর আদালতে আসামীর রিমান্ড শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার (১২ জুলাই ২০২৫) বিকেলে চাঁদপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের আদালতে বিল্লাল এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে আসামী পক্ষে কেউ জামিন চায়নি। আদালত সূত্রে জানা যায়, বিকেল তিনটার সময় বিল্লালকে প্রথমে আদালতে আনা হয়। এরপর তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হচ্ছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর নাজমুল হোসেন। এদিকে হামলার ঘটনায় গত শুক্রবার রাতেই মাওলানা আ.ন.ম নূরুর রহমান মাদানীর বড়ো ছেলে আফনান তাকি বাদী হয়ে আসামী বিল্লাল হোসেনের নামে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে চাঁদপুর শহরে ইসলামী দলগুলো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। এদিকে শনিবার সকাল থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় গুজব রটে মসজিদের খতিব মারা গেছেন। পরে পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রসঙ্গত, চাঁদপুর শহরের প্রফেসর পাড়ায় মসজিদের খতিব, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আ, ন, ম নুরুর রহমান মাদানীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীর সদস্য ঘাতক মো: বিল্লাল হোসেন (৫৫) নামে এক লোক।

শুক্রবার (১১ জুলাই ২০২৫ খ্রি.) জুমার নামাজ শেষে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম খতিব আ, ন, ম নুরুর রহমান মাদানী চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারী বিল্লালকে গণধোলাই দিয়ে মসজিদে আটকে রাখে মুসল্লীরা। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ হামলাকারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একাধিক মুসল্লি জানায়, জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পূর্বে থেকে পরিকল্পিত করে হামলাকারী খতিব আ, ন, ম নুরুর রহমান মাদানীকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

ইমাম সাহেবকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময়ে হামলাকারীকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে মসজিদের বারান্দায় আটকে রাখে। খবর পেয়ে শত শত মুসল্লী এসে মসজিদ ঘেরাও করে রাখে। হামলাকারীকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ এসে হামলাকারী বিল্লালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা জানান, হামলাকারী বিল্লাল জঙ্গি টাইপের লোক, নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীর সদস্য। সে ইমাম সাহেবকে হামলা করার পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই মসজিদে চাপাতি নিয়ে এসেছেন। তার আঘাতে ইমাম সাহেবের এক কান কেটে গেছে। গলায় জখম হয়েছেন। তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন।

গুরুত্বর আহত বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আ, ন, ম নুরুর রহমান মাদানী (৬৫), চাঁদপুর শহরের ১১ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ গুনরাজি মাদানীর মঞ্জিলে মাওলানা জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি মাদানী মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মোবাল্লেগ। মাঝে মধ্যে তিনি ওই মসজিদে খুতবা প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি চাঁদপুর সদরের ঐতিহ্যবাহী শাহতলী কামিল (এমএ) মাদরাসা ও হাজীগঞ্জ আহমাদিয়া কামিল মাদরাসা এবং সাদ্রা মাদরাসার সাবেক মুহাদ্দিস ছিলেন।

গ্রেফতারকৃত ঘাতক মোঃ বিল্লাল হোসেন(৫৫), পিতা-আয়ুব আলী, সাং-প্রফেসর পাড়া মোল্লাবাড়ি রোড, থানা ও জেলা চাঁদপুর। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে ঘাতক মোঃ বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা আরো জানান, হামলাকারী বিল্লাল হোসেন কিছুদিন আগে খতিবের একটি খুতবায় নবী করীম (সা.) কে “ইসলামের বার্তাবাহক” বলার বিষয়টিকে অপমাণ হিসেবে ধরে নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন।

হামলার সময় চাপাতির সঙ্গে একটি নোটও ছিল, যাতে লেখা ছিল, আমার নবীজিকে অপমান করার কারণে তাকে হত্যা করা হলো। তবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বলেন, খতিব কোনোভাবেই এমন বক্তব্য দেননি যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। বরং এটি ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি উগ্র কর্মকাণ্ড। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী।

তারা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এবিষয়ে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সৈয়দ আহমদ কাজল জানান, আ, ন, ম নুরুর রহমান মাদানীর আহত স্থানে ১০ থেকে ১২টি সেলাই লেগেছে। তিনি বর্তমানে ওসেক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

সম্পর্কিত খবর