পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কামরাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু তাহের!

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কামরাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে নারীকে কু-প্রস্তাব, অনৈতিক কর্মকান্ডসহ নানা আর্থিক অনিয়ম অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ায় তুপের মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

স্থানীয়দের তোপের মুখে মাদরাসায় প্রবেশ করতে পারছেন না তিনি। কারণ তিনি মাদরাসায় যোগদানের পর থেকেই রয়েছে তার বিরুদ্ধে পাহাড়সমান অনিয়মের অভিযোগ।

এলাকাবাসী জানায়, পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের সমর্থিত বিতর্কিত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবু তাহেরের নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে । তাই তাকে মাদরাসায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না । এলাকাবাসী ,অভিভাবক মহল তার বিরুদ্ধে গভনিং বডির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে দাবী জানিয়েছেন । এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ।

স্থানীয় লোকদের অভিযোগ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবু তাহেরের সাথে পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের নেতা-কর্মীদের সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে ।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, মাদরাসার অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, দুর্নীতি, অনিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া ও ক্লাস না নেওয়া, ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত বেতন আদায়, গরীব-অসহায় পরিবারের শিক্ষার্থীদের কোন আর্থিক ছাড় না দেয়া, টাকা দিয়ে উপবৃত্তিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা, সরকারি আর্থিক সুযোগ সুবিধা ছাত্র-ছাত্রীদের না দেয়া, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন না করা, মাদরাসার জমি, পুকুর, গাছ বিক্রয় করে টাকা হাতিয়ে নেয়া সহ ইত্যদী।

জানা গেছে, ওই মাদরাসার অফিস সহকারী মর্জিনা আক্তারকে অনৈতিক কাজের কু-প্রস্তাব করেছে বলে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (মাদরাসার গভনিং বাডির সভাপতি) বরাবর অভিযোগের করে মর্জিনা। পরে এ ঘটনায় তদন্ত করেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকত।

গত (২ জুলাই ২০২৫) সরেজমিন তদন্ত করে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (মাদরাসার গভনিং বাডির সভাপতি) বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকত। অপরদিকে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার তিনিও তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এই ঘটনা নিয়ে দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পরে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করবে এলাকারবাসী ও স্থানীয় জনতা।

এ বিষয়ে কামরাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের দৈনিক চাঁদপুর খবরকে জানান, মাদরাসার হিসাব নিয়ে অফিস সহকারী মর্জিনার সাথে সমস্যা হয়েছে। কিছু বিষয় সঠিক আছে ,আমি স্বীকার করছি । তাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। জেলা প্রশাসক মহোদয় পর পর দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সবাই জানতে পারবে। তবে নারীকে কু-প্রস্তাবের বিষটি তিনি অসত্য বলে জানান।তিনি আরো জানান, আমি মাদরাসায় যেতে পারছি না । একবার যাওয়ার পর এলাকার লোকজন নিধেষ করছে যাতে পরবর্তীতে আর মাদরাসায় যাই নাই । আমি নিরাপত্তাহীনতা বিবেচনা করে আপাতত মাদাসায় যাচ্ছি না ।

এবিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকত হোয়ারসপে দৈনিক চাঁদপুর খবরকে জানান, সরেজমিন তদন্ত করে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি গোপনীয়,তাই রিপোর্ট সম্পর্কে কিছু বলা যাবে না, প্রকাশ করা যাবে না। আমার পূর্বে আরো একটি তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে বিষটি বিবেচনাধীন।

সম্পর্কিত খবর