
মহসিন হোসাইন: চাঁদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এর বাসভবন থেকে রাতের অন্ধকারে একটি এলসিডি মনিটর (টিভি) ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে থেকে দিনদুপুরে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে।
গত (৯ এপ্রিল) বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান এর বাসভবন থেকে সিসি ক্যামেরার চোখে ধূলো দিয়ে ও নৈশপ্রহরীকে ফাঁকি দিয়ে, তালা ভেঙে একটি এলসিডি মনিটর (টিভি) চুরি করে নিয়ে যায় কে বা কারা।
এর পরেরদিন (১০ এপ্রিল ) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায় এক যুবক।
চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভবরঞ্জন দাস জানান, ঐদিন শিক্ষা অফিসে অফিসিয়াল কাজে এসেছিলেন সফরমালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জহিরুল ইসলাম। তিনি নিচে মোটরসাইকেল রেখে উপরে গেলে এসে দেখেন তাঁর মোটরসাইকেলটি আর নেই।
পরে পিসি ফুটেজে দেখা গেছে এক যুবক মোটরসাইকেলটি নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি অপরাধীকে। পরে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক জহিরুল ইসলাম চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন বলে জানান।
চুরির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় লোকজন বলেন, কিছুদিন পর পরই সদর উপজেলায় ঘটে এই ধরনের চুরির ঘটনা। এটি নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগেও নির্বাচন কমিশন অফিসের কাজ শেষ হওয়ার পর কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সদর উপজেলায় রেখে গেলে পরে দেখা যায় যে, উপযুক্ত নিরাপত্তার অভাবে রাতের অন্ধকারে সেগুলো চুরি করে নিতে পারলে দিনের বেলায় নিতে এসে চোর হাতেনাতে ধরা পড়ে।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা মিলে তাকে থানায় সোপর্দ করেন। এর আগেও কয়েকবার ঘটেছে এই ধরনের লোমহর্ষক চুরির ঘটনা। কিছুদিন পর পর এই রকম চুরি হওয়ার পিছনে রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব বলে মনে করেন সদর উপজেলার কয়েকজন অফিস স্টাফ এবং স্থানীয়রা। নয়তো উপজেলায় সিসি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও রাতে তো হচ্ছেই, দিনের বেলায়ও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যাবস্থা।
এছাড়াও গত বছর দু’এক আগেও রাতের অন্ধকারে সদর উপজেলার নিচতলায় উপজেলা ডিজিটাল সেন্টার এবং ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট কক্ষ থেকে কৌশলে তালা ভেঙে কম্পিউটারের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পার্টস, ল্যাপটপ, নগদ অর্থসহ মূল্যবান বেশি কিছু জিনিসপত্র নিয়ে গেলে পরে সন্দেহজনকভাবে নৈশপ্রহরীদের দোষী সাব্যস্ত করে মামলা দায়ের করা হয়।
কিন্তু মূল অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে বার বার। অতীব জরুরি ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন সহ বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখাসহ আরো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেন উপজেলা অফিসের কয়েকজন দপ্তর প্রধান ও সংশ্লিষ্ট স্টাফরা।
তবে সদর উপজেলায় আছে নৈশপ্রহরী সংকট, আছে অফিস প্রধানদের বেখেয়ালীপনা, রয়েছে দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি অবহেলা। যা কিনা সরেজমিনে গিয়েই দেখা যায়। এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলায় প্রায় ১৬ টি অফিসের জন্য রয়েছে দিনে এবং রাতে মিলিয়ে মাত্র ৩ জন নৈশপ্রহরী।
তাও আবার এই চারজন দিনেও অফিস সহায়কের কাজ করেন এবং রাতেও আবার নৈশপ্রহরীর কাজে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় নিয়মিত। তবে রাতে দু’জনের বেশি খুব কমই দেখা যায়। ব্যাক্তি একজন, কিন্তু দিন-রাত মিলিয়ে করেন সব ধরনের কাজই। অফিস পিয়নের কাজ থেকে শুরু করে রাতের নৈশপ্রহরীও একই ব্যাক্তি সে নিজেই।
পরে এই বিষয়ে সদর উপজেলা ইউএনও শাখাওয়াত জামিল সৈকত এর কাছে বিস্তারিত জানতে ফোন করা হলে তাঁকে ফোন কলে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার আদ্যোপান্ত সম্পর্কে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মোঃ বাহার মিয়া জানান, উপজেলায় চুরির ঘটনাটি সত্য। তবে এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি। এই বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।




