মতলবে মহারাজ লঞ্চ দুর্ঘটনার ২০ বছরে আজো থামেনি স্বজনদের আহাজারি

সমির ভট্রাচার্য্য : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলা বাসীর জন্যে ভয়াল ১৯ ফেব্রুয়ারি আজ। ২০০৫ সালের এই দিনে ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা মতলবগামী এমভি মহারাজ লঞ্চ কালবৈশাখী ঝড়ে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাগলা নামক স্থানে উল্টে নিমজ্জিত হয়। এ ট্রাজেডির ২০ বছর পূর্ণ হলো আজ।

দুর্ঘটনায় প্রায় দু’শতাধিক বিভিন্ন বয়সী শিশু-নারী ও পুরুষ প্রাণ হারায়। লঞ্চটিতে মতলব দক্ষিণ ও উত্তর উপজেলার যাত্রী ছাড়াও চাঁদপুর, শরীয়তপুর, ভোলাসহ বিভিন্ন জেলা- উপজেলার যাত্রী ছিল। লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত স্বজনদের কান্না থেমে নেই আজও। মতলববাসীর জন্যে আজকের দিনটি হচ্ছে শোকাবহ এক স্মরণীয় দিন। বছর শেষে এ দিনটি ফিরে এলে মনে পড়ে যায় প্রিয়জনদের কথা।

দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন ক্রীড়া সংগঠক ও নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, তার কন্যা মতলব কচি-কাঁচা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী শিলাত জাহান অর্থি, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই মাস্টার, আইসিডিডিআরবির ডা. মো. মাসুম, দগরপুর গ্রামের প্রকৌশলী ফারুক দেওয়ান, মতলব বাজারের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী ইয়াসিন মৃধা, ড্যাফোডিল ইউনির্ভাসিটির কর্মকর্তা ফারুক দেওয়ানসহ পরিবারবর্গ, দশপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলাম,

বাইশপুর গ্রামের ছোট খোকন ও বড় খোকন, মাসুদ, মতলব উত্তরের বারহাতিয়া গ্রামের ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী শাহআলম, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের টিপু শিকদার, ঘাসিরচর গ্রামের আবু হানিফ, পাঠানচক গ্রামের ইয়াছিন আরাফাত, বাদল হোসেন, মধ্য নিশ্চিন্তপুর গ্রামের টিপু মুন্সি, দর্গাপুর গ্রামের সুমন মিয়া প্রমুখ।

এম ভি মহারাজ লঞ্চ দূর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া মতলব দক্ষিন উপজেলার পইলপাড়া গ্রামে সফিকুল ইসলামের ছেলে ফল ব্যবসায়ী স্বপন মিয়া জানায়, এমন পরিস্থিতিতে থেকে বেঁচে আসা মোটেই সম্ভবনা। আল্লাহ রহমত ছিল বলেই আমি বেঁচে আছি। তিনি কান্নাজনিত কন্ঠে জানায় ভাই এই ঘটনা বর্ণনা করার মতো না।

আর এক বেঁচে যাওয়া যাত্রী মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের লুধুয়া গ্রামের তোফায়েল পাটোয়ারী বলেন,মৃত্যুর মিছিলে আমি যে বেঁচে ফিরেছি তা ভাবলে মনে হয়, নিজের পূণর্জন্ম হয়েছে। আল্লাহ আমার মা বাবা, স্ত্রী সন্তানদের কাছে জীবিত ফিরিয়েছেন শোকরিয়া। সেই বিভৎস দৃশ্য চোখে ভেসে উঠলে গা শিহরিত হয়ে ওঠে।

আর যেসব লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি তাদের ছবি তুলে বেওয়ারিশ হিসেবে মতলব পৌরসভার ঢাকিরগাঁও রিয়াজুল জান্নাত কবরস্থানে দাফন করা হয়। বেওয়ারিশ লাশের কবরের পাশে দূর-দূরান্ত থেকে এসে স্বজনদের কবর জিয়ারত ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

মিলাদ, মাহফিল, দোয়া ও শোকসভার মাধ্যমে এ দিনটিকে স্মরণ করে রাখেন নিহতদের স্বজনরা। নিহতের মাগফেরাত কামনায় আজ মতলবের সূর্যমুখী কচিকাঁচার মেলা, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছে ।

সম্পর্কিত খবর